'মা' সিনেমার সেটে কয়েক ঘণ্টা
গাজীপুরের শীতলক্ষ্যায় উড়ছে পাকিস্তানি পতাকা!
অনিন্দ্য মামুন
প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২১ | ০১:০২ | আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০২১ | ০২:০০
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীতে দুটি নৌকায় পতপত করে উড়ছে পাকিস্তানি পতাকা। নৌকা দুটি ঝাপসাভাবেই দৃষ্টিগোচর হয়। নৌকার মধ্যে পাকিস্তানি বাহিনী রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে। নৌকায় বসা একজন। মাথার ওপর ছাতা ধরে আছে কেউ। পাশে ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা পরে দাঁড়িয়ে একজন। পাশ দিয়ে যাওয়া মাছ ধরা এক নৌকার লোকদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলছিলেন, ওই সাহেবকে সালাম দাও। তারাও কিছু না বুঝেই হাত উঁচিয়ে সালাম দিয়ে চলে গেলেন। নৌকা দুটি নদীর তীরে আসামাত্রই চমকে যাওয়ার পালা। লম্বা দাড়ি, পাঞ্জাবি-পাজামা ও কালো টুপি পরে যে লোকটি সালাম দিতে বলছিলেন, তিনি অভিনেতা সাজু খাদেম। আর ছাতার নিচে বসা লম্বা মোছওয়ালা মেজরের পরিচয় করিয়ে দেওয়াটা লোকটি অভিনেতা আজাদ আবুল কালাম।
নাট্যনির্মাতা অরণ্য আনোয়ারের সিনেমা 'মা'র শুটিং দৃশ্য এটি। সম্প্রতি শুটিং স্পটে গিয়ে দেখা গেল এ দৃশ্য। শীতলক্ষ্যার তীরে নৌকা থামামাত্রই হুড়মুড়িয়ে পাকিস্তানি সেনাদের সাজে ১৫-১৬ জন নেমে আসে। বসে রইলেন নির্মাতা অরণ্য আনোয়ার, সাজু খাদেম ও আজাদ আবুল কালাম। নৌকাতেই কথা হয় তাদের সঙ্গে।
নির্মাতা জানান, দুটি নৌকায় মুক্তিবাহিনীর ওপর হামলা করতে যাচ্ছিল পাকিস্তানি আর্মি। তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন এই মমিনুল হুজুর- এই দৃশ্যটিই এতক্ষণ চিত্রায়ণ হচ্ছিল। তাহলে কি সাজু খাদেমই মমিনুল হুজুর? প্রশ্ন রাখতেই মাথা থেকে টুপি খুলে বলা শুরু করেন সাজু খাদেম, হ্যাঁ আমিই মমিনুল হুজুর। মূলত রাজাকার। পাকিস্তানি বাহিনীর সব অত্যাচারের সাহায্য করে থাকি। এই যে মমিনুল হুজুরের মুখে যে দাড়ি দেখছেন, সেটি কিন্তু নকল না, অরিজিনাল। ছবিটির জন্য দাড়ি রেখেছি, চুল বড় রাখতে হয়েছে, নিয়মিত পান খাচ্ছি। আমি এখন মমিমুল হুজুর। সাজু খাদেম নামটি আপাতত ভুলে গেছি।

কথাগুলো বলতে বলতেই এক খিলি পান মুখে ভরে দিলেন তিনি। হাসিমুখে বললেন, আরও একটি গোপন কথা আছে। সেটা হচ্ছে এখানে কিন্তু আমার তিন বউ। তারা হলেন- ফারজানা ছবি, রেবেনা করিম জুঁই ও লাবণ্য। পর্দায় তার এই তিন বউয়ের বয়স যথাক্রমে ৩০, ২৫ ও ১৮। এই যে সিনেমায় তিন বউ আপনার, বাস্তবে তিন বউ থাকলে কেমন লাগত? প্রশ্ন রাখলে সাজু খাদেম বলেন, 'বাস্তবে সাজু খাদেম কিন্তু অন্য মানুষ। তাই তিন বউ থাকলে ভালো লাগত না। ম্যানেজ করা সম্ভব নয়।' বলেই চিরচেনা হাসি হাসলেন এ অভিনেতা।
যুদ্ধকালীন এক মা ও একটি বাচ্চার গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে সিনেমা 'মা'। ছবিতে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করবেন পরীমণি। গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এরই মধ্যে প্রথম লটের শুটিং শেষ। পরের লটে পরীমণির অংশ নেওয়ার কথা। এই লটে শুটিং করেছেন আবুল কালাম আজাদ, সাজু খাদেম, জুঁই করিম, ফারজানা ছবি, শাহাদৎ হোসেন লাবণ্য প্রমুখ।

সাজু খাদেমের পাশে গম্ভীর মুখে বসে আছেন আজাদ আবুল কালাম। শুটিং শেষ হলেও চরিত্র থেকে বের হতে পারছেন না তিনি। কথায় তার ছাপ পাওয়া গেল। তার চরিত্রটি সম্পর্কে জানতে চাইলেন সংক্ষেপে বললেন, 'সে সময় পাকিস্তানের কয়েকজন মেজর দেশের মানুষের প্রতি কতটা অত্যাচার করেছে, তা আমার এই চরিত্রটা দেখলে কিছুটা আন্দাজ করতে পারবেন। চরিত্রটি আমি করলেও এর মধ্যে থেকে বের হতে পারছি না। মানুষকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেন তিনি। মানে অত্যাচারের এমন কোনো পদ্ধতি নেই, যা তিনি প্রয়োগ করেন না। তাই চরিত্রটি করতে গিয়ে আমিও তাই একটা ঘোরের মধ্যে আছি। যে ঘোর থেকে শুটিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত বের হওয়া সম্ভব না।'
