যুদ্ধবিরতি
চুক্তিতে আর্থিক ক্ষতিপূরণই মূল জটিলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৭:০১
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক যুদ্ধ ক্ষমতার ওপর বড় ধরনের ধাক্কা এসেছে। গত বুধবার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে প্রেসিডেন্টের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা খর্ব করতে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাস হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ট্রাম্প ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান বা সেনা মোতায়েন করতে পারবেন না।
রয়টার্সের খবর অনুসারে, প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২১৫-২০৮ ভোটের ব্যবধানে পাস হয়। ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবে ট্রাম্পের নিজস্ব দল রিপাবলিকানেরও চারজন আইনপ্রণেতা (টম ব্যারেট, ওয়ারেন ডেভিডসন, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক ও থমাস ম্যাসি) সমর্থন দিয়েছেন। একে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির প্রতি এক বিরল ধাক্কা বা তিরস্কার হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এই বিলের স্পন্সর গ্রেগরি মিকস এক বিবৃতিতে বলেন, বিলটি পাস হওয়া একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট। ক্রমবর্ধমান হারে রিপাবলিকানরাও এখন বুঝতে পারছেন, তাদের ভোটাররা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধ চান না।
তবে এই ভোট আপাতত মূলত প্রতীকী। কারণ, প্রস্তাবটি কার্যকর হতে হলে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটেও এটি পাস হতে হবে। যদি সেখানেও পাস হয়, তবে ট্রাম্পের কাছে তা ‘ভেটো’ দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। সেই ভেটো ভাঙতে হলে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ কঠিন।
তবুও প্রস্তাবটি পাস হওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ, এটি ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হোয়াইট হাউসের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং যুদ্ধবিরোধী জনমতও জোরালো হয়েছে।
এটি ছিল ট্রাম্পের যুদ্ধ-সংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত করার জন্য প্রতিনিধি পরিষদের চতুর্থ প্রচেষ্টা।
প্রতিনিধি পরিষদের এই সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি দেশদ্রোহী ও অর্থহীন বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, যখন আমি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার চূড়ান্ত আলোচনা চালাচ্ছি, ঠিক তখনই চারজন খারাপ রিপাবলিকান ও সব ডেমোক্র্যাট মিলে আমার যুদ্ধ-ক্ষমতা সীমিত করার জন্য এই অর্থহীন ভোট দিল। রিপাবলিকানদের লজ্জিত হওয়া উচিত। আর হোয়াইট হাউস এই বিলের আইনি ভিত্তি খারিজ করে একে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেছে।
অপারেশন এপিক ফিউরি সমাপ্ত: মার্কো রুবিও
একই দিনে মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে।
শান্তিচুক্তির মূল বাধা আর্থিক ক্ষতিপূরণ
সিএনএন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ ইরানের সঙ্গে একটি ইতিবাচক চুক্তি বা ফলাফলের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে পর্দার পেছনের আলোচনা একটি বড় জায়গায় আটকে আছে। আর তা হলো ইরানের অবরুদ্ধ হয়ে থাকা বিপুল অর্থ ছেড়ে দেওয়া ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ।
- বিষয় :
- ইরান
- ইসরায়েল
- আমেরিকা
- যুদ্ধবিরতি
