তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন
অভিষেকের বিরোধিতা নাকি ক্ষমতার নতুন সমীকরণ
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৭:০৮
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই যেন সব তাস। দলের প্রতিষ্ঠাতা ও তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন হয়তো মানিয়ে চলতে হবে, না হয় সব হারানোর ঝুঁকি নিতে হবে। নির্বাচনে পরাজয়ের এক মাস পার না হতেই দলটির ভেতরের পরিস্থিতি মারফির সূত্রের (যদি কোনো কিছু খারাপ হওয়ার থাকে, তবে তা হবেই) মতো রূপ নিয়েছে।
টানা তিন মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল এবার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। এমনকি ৭১ বছর বয়সী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে নিজের আসনে পরাজিত হয়েছেন। এরপর থেকেই দলে অসন্তোষ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
অসন্তোষের শুরু ও পরিবারতন্ত্র
পরাজয়ের দুদিন পর, ৬ মে নবনির্বাচিত বিধায়কদের এক বৈঠকে মমতা নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের প্রশংসা করতে বলেন। এই ঘটনাটি বিধায়কদের একাংশের মধ্যে গুঞ্জন তৈরি করে। তাদের মনে হতে থাকে, দল দিন দিন একটি পরিবারকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।
অভিষেকের ওপর হামলা ও নেতৃত্বের দূরত্ব
৩০ মে সোনারপুরে এক জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হামলার মুখে পড়েন। রাজনৈতিক দলগুলো এ ঘটনার নিন্দা করলেও, তৃণমূলের নিজস্ব বিধায়ক ও সংগঠনের একাংশের নীরবতা স্পষ্ট করে দেয়, নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব কতটা বেড়েছে।
অপারেশন ক্রাউন প্রিন্স
১ জুন স্পিকারের কাছে অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডির তদন্ত শুরু হতেই তৃণমূল ঋতব্রত ও সন্দীপনকে দল থেকে বহিষ্কার করে। কিন্তু এই বহিষ্কার বিদ্রোহের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। তারা অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অভিযোগ এনে তাদের অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন ক্রাউন প্রিন্স’।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিদ্রোহীদের কৌশল
বিদ্রোহী নেতারা কিন্তু সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করছেন না। তাদের এক নেতার ভাষ্যমতে, ‘আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা মানি, কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নয়।’ এমনকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মমতাকে পরিষদীয় দলের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা নমনীয় করার চেষ্টা করেছেন। এদিকে, আকস্মিক এই রাজনৈতিক ঝড়ে দিশেহারা তৃণমূল। ক্ষমতার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার জয় হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
- বিষয় :
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
- তৃণমূল কংগ্রেস
