রপ্তানিমুখী সব শিল্পে বন্ড সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে
আমির খসরু মাহমুদ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৮:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
রপ্তানিমুখী সব শিল্পের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস বা শুল্কমুক্ত গুদাম সুবিধা সম্প্রসারণে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রপ্তানি বাড়ানো, ব্যবসার খরচ কমানো এবং অপ্রচলিত খাতের প্রবৃদ্ধি উৎসাহিত করা এর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি। গত বুধবার ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভ (ডিএফআই) আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় একথা জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী।
বন্ডেড ওয়্যারহাউস হচ্ছে কাস্টমস বিভাগ নিয়ন্ত্রিত সুরক্ষিত গুদাম ব্যবস্থা, যেখানে সংরক্ষিত শতভাগ রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালে আমদানি শুল্ক দিতে হয় না। বর্তমানে তৈরি পোশাকসহ সীমিত কয়েকটি খাত এই সুবিধা ভোগ করছে। তবে শতভাগ রপ্তানিযোগ্য সব পণ্য এই সুবিধা
পায় না।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে যে কোনো পণ্য রপ্তানি করলেই বন্ডেড ওয়্যারহাউসের অনুমতি দেওয়া হবে। এটি এখন আর শুধু পোশাক খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। স্বর্ণের অলংকার এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের উৎপাদিত পণ্যসহ বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকরা বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা এবং ব্যাক-টু-ব্যাক লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) সহায়তার যোগ্য হবেন।
তিনি বলেন, সরকার প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানির সুযোগ কমিয়ে এই সুবিধাটিকে আরও সহজলভ্য করতে চায়। ব্যবসায়ীদের এখন থেকে প্রতি বছর বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে না। এর পরিবর্তে প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছরে একবার অডিট করা হবে। বন্ড নিয়ে আর কোনো হয়রানি সহ্য করা হবে না বলে জানান তিনি।
আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায় যেখানে অলংকার তৈরি, হীরা প্রক্রিয়াকরণ এবং অন্যান্য রপ্তানি শিল্পগুলো কাঁচামালের ওপর আমদানির চড়া শুল্ক ও জটিল নিয়মের বেড়াজালে আটকে না থেকে স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে পারে।
ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আরও করেন, ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদনের জন্য সরকার একটি ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট ক্লিয়ারেন্স সিস্টেম’ বা এক দরজায় সেবা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছে, যেখানে সরকারি সংস্থাগুলোর আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা থাকবে। কোম্পানির নিবন্ধন এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সেবাগুলো অনলাইনে স্থানান্তরিত করা হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন করা হবে।
ডিরেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণকে বর্তমান প্রশাসনের অর্থনৈতিক কৌশলের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে খসরু বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে অতিরিক্ত নিয়মকানুনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ব্যবসার খরচ বাড়িয়েছে ও বিনিয়োগের গতি ধীর করেছে।
এছাড়া কর প্রশাসন, বন্দর কার্যক্রম, ব্যবসায়িক সেবার সংস্কারসহ ডিজিটালাইজেশনের ওপর সরকারের বিশেষ নজরদারির কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে বিলম্ব কমাতে এবং বাণিজ্য সহজতর করতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত টেস্টিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের বিষয়টি যাচাই করছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকার কাছে ১৬০ একর জায়গার ওপর একটি ‘ক্রিয়েটিভ ডিসট্রিক্ট’ বা সৃজনশীল এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার।
- বিষয় :
- আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
