পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা
রায় রোববার, সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্রপক্ষ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৯:১৬ | আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৯:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের মেয়েশিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় আগামী রোববার ঘোষণা করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায়ের এ দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ঘটনার মাত্র ২০ দিনের মাথায় রায় হতে চলল।
যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর দাবি, জবানবন্দি দেওয়ার সময় সোহেল রানা নেশাগ্রস্ত ছিলেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হোক।
গতকাল সকালে সোহেল রানা ও স্বপ্নাকে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে হাজির করা হয়। তবে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরুর আগে স্বপ্না অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার পর আসামিদের এজলাসে তোলা হয়।
উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক
শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। আসামিদের অপরাধের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেন। এ ছাড়া জবানবন্দিতে আসামি সোহেল রানার দেওয়া বর্ণনা আদালতে পড়ে শোনান। আসামি তাঁর জবানবন্দিতে কোথাও ডলার নামে কোনো ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেননি বলেও জানান তিনি।
এ পর্যায়ে বিভিন্ন সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে দুলু বলেন, ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, মামলার বিভিন্ন আলামত, ফরেনসিক রিপোর্ট, তদন্ত প্রতিবেদন সবকিছু পর্যালোচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এমন একটি নৃশংস, বীভৎস ও স্পর্শকাতর ঘটনায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, সোহেল রানা শিশুটিকে নিজের ফ্ল্যাটের শৌচাগারে নিয়ে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেছেন। পরে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। এসব কাজে আসামি স্বপ্না সহযোগিতা করেছেন। মামলায় ১৬ জন সাক্ষী এই হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন। তা ছাড়া হত্যাকাণ্ডের পুরো সময় স্বপ্না আক্তার বাসার ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন। দরজা খুলতে বললেও খোলেননি। বাসার ভেতরে শিশুটি নেই বলে তার মাকে জানান। দুলু বলেন, ‘বিচারে সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরায় তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করছি।’
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ যুক্তিতর্কে অংশ নিয়ে বলেন, জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। যে ছুরি দিয়ে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, সেটার ফরেনসিক পরীক্ষা হয়নি। এর ওপর ভিত্তি করে সাজা দেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, ‘আসামি সোহেল রানা নিজেকে জড়িয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার সময় তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন। নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি কখনও সঠিক কথা বলতে পারেন না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁর যাবজ্জীবন সাজা প্রার্থনা করছি।’ তিনি বলেন, আসামি স্বপ্না আক্তারের বিষয়ে ১৬ জন সাক্ষীর দেওয়া সাক্ষ্যে লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগ ছাড়া কিছুই নেই। তাঁকে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় সাজা দেওয়া হোক।
উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে রায়ের জন্য আগামী রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেন বিচারক।
গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ওই দিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। লাশ গুমের উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করেন।
- বিষয় :
- শিশু হত্যা
