ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বন্ধ শিল্প চালু করতে ৭% সুদে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ

অর্থ পাচার, ঋণ জালিয়াতিতে সম্পৃক্তরা ঋণ পাবেন না

বন্ধ শিল্প চালু করতে ৭% সুদে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৯:১৭ | আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ | ১০:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

বন্ধ শিল্প ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে ব্যাংকগুলো গ্রাহক পর্যায়ে মাত্র ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে। এখান থেকে ঋণখেলাপি, অর্থ পাচারে জড়িত ও জাল-জালিয়াতিতে সম্পৃক্তদের ঋণ দেওয়া যাবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকে পাঠিয়েছে। ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলের আওতায় বড় শিল্প ও সেবা খাতের এ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংকগুলো ১২ থেকে ১৪ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। কম সুদের এ তহবিলের ফলে সামগ্রিকভাবে বাজারে সুদহার কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে গত ২৩ মে বন্ধ কলকারখানা চালুসহ বিভিন্ন খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

নীতিমালা অনুযায়ী, বন্ধ ও আংশিক সচল কারখানা পুরোপুরি চালু করতে একটি কোম্পানি বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা চলতি মূলধন ঋণ নিতে পারবে। চলতি মূলধন নেওয়া কোম্পানিতে প্রতিনিধি বসাতে পারবে ব্যাংক। স্কিমের আওতায় ঋণের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা কোম্পানি ও ব্যাংক পাবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা।  
মূলত ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রাক-অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তহবিল থেকে ৪ শতাংশ সুদে অর্থায়ন পাবে ব্যাংকগুলো। দেশের সব ব্যাংক এই তহবিল থেকে টাকা নিতে পারবে।

কারা ঋণ পাবে
নীতিমালায় বলা হয়েছে, তহবিলের প্রধান লক্ষ্য বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করা, যারা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও শুধু চলতি মূলধনের অভাবে পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন বা সেবা দিতে পারছে না। এই সহায়তার মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ যে প্রতিষ্ঠানগুলো আবার চালু হতে সক্ষম, তারা এই সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও ঋণ পাবে। কোনো দক্ষ প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ থাকা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে সচল করার উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ করে বা ইজারা নেয়, তবে তারাও এই সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। ঋণগ্রহীতাকে অবশ্যই ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) অনুযায়ী খেলাপি হওয়া যাবে না এবং ইতোপূর্বে অর্থ পাচার বা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের কোনো রেকর্ড থাকা চলবে না।

আদায় ও তদারকি ব্যবস্থা
নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে টাকা কেটে নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অতিরিক্ত ২ শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ হবে। ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলো গ্রাহক থেকে সাপ্তাহিক বিক্রয় বা রাজস্ব রিপোর্ট সংগ্রহ করবে। ব্যাংকের প্রতিনিধিরা প্রতি তিন মাস অন্তর কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকও যে কোনো সময় সরেজমিন পরিদর্শন করে ঋণের ব্যবহার যাচাই করতে পারবে।

আরও পড়ুন

×