বাজার ঊর্ধ্বমুখী: কষ্টে মানুষ
বাড়তি খরচে চোখে অন্ধকার দেখছেন অরুণ
অরুণ সূত্রধর
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৯:১০ | আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ | ১১:১০
| প্রিন্ট সংস্করণ
অরুণ সূত্রধর চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে একটি সেলুনে ১০ বছর ধরে কাজ করেন। মা-বাবাসহ ছয়জনের সংসার। সাবলেট থাকেন সবুজবাগ আবাসিক এলাকার একটি বাসায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার কথা হয় অরুণের সঙ্গে। চুল কাটতে কাটতে তিনি জানালেন, যে বাসায় থাকেন সেখানে আরও পাঁচটি পরিবার থাকে। কিন্তু বিদ্যুতের মিটার একটি। আলাদা মিটার না থাকায় ছয়টি পরিবার যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তার গড় করে প্রতি পরিবারকে বিল দিতে হয়। ফলে সরকার নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে তাঁর কোনো লাভ নেই। তাঁকে বাড়তি দামেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে।
হঠাৎ বিদ্যুতের দাম বাড়ায় চোখেমুখে অন্ধকার দেখা অরুণ একরাশ হতাশা নিয়ে বলেন, ‘বিদ্যুতের যে দাম বেড়েছে, তাতে আমাদের আগের চেয়ে ৫০০-৭০০ টাকা অতিরিক্ত বিল আসবে। এদিকে বাড়ির মালিক আগামী মাস থেকে বাসা ভাড়াও এক হাজার টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই বাড়তি ১ হাজার ৭০০ টাকার আয় তো আমার বাড়েনি। কিন্তু এ খরচ তো আমাকে বহন করতেই হবে। কী করব– বুঝে উঠতে পারছি না।’
শুধু অরুণ সূত্রধর নন; জীবনযাত্রার অব্যাহত ব্যয় বৃদ্ধিতে দিশেহারা সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের একজন আবু তাহের। বহুতল একটি ভবনে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করেন। মাসে মাত্র ১২ হাজার টাকা বেতন পান। এ টাকা দিয়ে তিন সন্তানকে পড়াশোনা করাচ্ছেন তিনি। আবু তাহের বলেন, ‘তিন সন্তানের স্কুলে চলতি বছর থেকে বেতন বেড়ে গেছে। খাতা-কলমের দামও বাড়তি। এর মধ্যে আবার বাড়তি দিতে হবে বিদ্যুৎ বিল। সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হয় বাসায়। সেটির দামও গত কয়েক মাসে বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।
কীভাবে সংসার চালাব, সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালাব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই।’
নিম্নবিত্তের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে মধ্যবিত্তেরও। বেসরকারি একটি গণমাধ্যমে কর্মরত নগরের পাঁচলাইশ থানা এলাকার বাসিন্দা মো. হোসেন বলেন, প্রতিনিয়ত জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। কিন্তু সে হারে আয় বাড়ছে না। আয়ের সঙ্গে ব্যয় সামাল দিতে না পারায় এ বছর দুই মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করতে পারিনি। পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে বৃদ্ধ বাবার চিকিৎসার খরচ আছে মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে মো. হোসেন বলেন, ‘এমন পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি তেলের পর বাড়ল বিদ্যুতের দাম। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে যাতায়াত খরচ হয়েছে কয়েক গুণ। চলতি মাস থেকে দিতে হবে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলও। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যেতে হবে মনে হচ্ছে।’
- বিষয় :
- বাজারদর
