সাক্ষাৎকার
অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করতে হবে
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জিপিএইচ ইস্পাত
সারোয়ার সুমন
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২২ | ২২:৫০
চলমান সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করতে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ইস্পাত কোম্পানি জিপিএইচ ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেছেন, এআইটি দিতে গিয়ে বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে আটকে থাকছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো মূলধনস্বল্পতায় ভুগছে। এআইটি প্রত্যাহার করলে মূলধনস্বল্পতা দূর হবে।
২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে সমকালের সঙ্গে আলাপচারিতায় জাহাঙ্গীর আলম এমন মতামত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইস্পাতের কাঁচামাল ও রড উৎপাদনে ব্যবহূত রাসায়নিকের বড় অংশই আমদানিনির্ভর। বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশে রডের দাম দফায় দফায় বাড়ছে। রডের দাম নিয়ন্ত্রণে স্ট্ক্র্যাপ ও স্পঞ্জ আয়রন আমদানিতে বিদ্যমান সব শুল্ক্ক ও কর কমাতে হবে। এতে উন্নয়ন প্রকল্পসহ দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে গতি পাবে। কমবে দামও।
তিনি বলেন, ইস্পাত শিল্পে কাঁচামালের দাম বাড়ায় অনেক দেশ শুল্ক্ক প্রত্যাহার করেছে। বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ দরকার। ২০২০ সালের মার্চ-এপ্রিলে রড তৈরির কাঁচামাল মেল্টিং স্ট্ক্র্যাপের প্রতি টনের দাম ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ মার্কিন ডলার। বর্তমানে তা ৫৫০ থেকে ৫৯০ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ২০২১ সালে ইস্পাত তৈরিতে ব্যবহূত প্রধান রাসায়নিক ফেরো অ্যালয়সের প্রতি টনের দাম ছিল গড়ে ৮৫০ মার্কিন ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া পণ্য পরিবহনে কনটেইনার ভাড়া বেড়েছে প্রায় চার গুণ। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে স্ট্ক্র্যাপ আমদানিতে টনপ্রতি দেড় হাজার টাকা শুল্ক্ক ও ৫০০ টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। স্ট্ক্র্যাপের শুল্ক্ক কমিয়ে ৫০০ টাকা এবং অগ্রিম আয়কর ১০০ টাকা করা যেতে পারে। অন্যদিকে রড তৈরির রাসায়নিক আমদানিতে বর্তমানে ৮০০ টাকা শুল্ক্ক ও ৫০০ টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। আগামী বাজেটে রাসায়নিক আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার ও অগ্রিম আয়কর কমিয়ে ১০০ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে। ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের অন্যতম উপকরণ হচ্ছে সিমেন্ট, লৌহ এবং লৌহজাত পণ্য। এসব পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কর সুবিধা দেওয়া হলে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। করোনার সংকটময় মুহূর্তে পোশাকশিল্প বাঁচিয়ে রাখতে সরকার যেভাবে নগদ প্রণোদনা দিয়েছে সেভাবে ইস্পাত শিল্পেও নগদ প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন। নয় তো এই শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে।
স্তরভিত্তিক ভ্যাট পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সমজাতীয় পণ্য হওয়ার পরও একজন ব্যবসায়ীকে আমদানি, উৎপাদন, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন ধাপে ভ্যাট দিতে হয়, যার কারণে পণ্যের দাম বাড়ে। ভোক্তার ওপর চাপ বাড়ে। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। ভ্যাট আদায়ের নামে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বেশিরভাগ ব্যবসায়ী সততার সঙ্গে ব্যবসা করতে চান। প্রক্রিয়াগত কারণে কখনও কখনও ট্যাক্স-ভ্যাট দিতে কারও কারও দেরি হতে পারে। যুগের পর যুগ সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করা কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে এক রাতে সব হারিয়ে না ফেলে সেদিকেও নজর রাখতে হবে। ভ্যাট অফিসকে ব্যবসায়ীদের কথাও শুনতে হবে। সবাই মিলে দেশটাকে এগিয়ে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমরা একে অপরের পরিপূরক।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সারোয়ার সুমন
- বিষয় :
- অগ্রিম আয়কর
- এআইটি
- ইস্পাত শিল্প