রিসোর্টে রাতযাপন
সোহানা রহমান
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৩ | ১৮:০০
ঢাকায় থেকেও যারা গ্রামের পূর্ণ স্বাদ পেতে চান তারা ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার কাছাকাছি কোনো এক রিসোর্ট থেকে। পরিকল্পিত উপায়ে গড়া ইমারাত, নান্দনিক গাছ-গাছালি, পুকুর, সুইমিং পুল সবকিছুই আছে সেখানে। লিখেছেন সোহানা রহমান।
এবারের ঈদের ছুটিতে কোথায় বেড়াতে যাবেন ভেবেছেন কি? হাতে যদি কম সময় থাকে এবং আপনি যদি গ্রামে বেড়াতে যেতে না চান, তাহলে ঘুরে আসুন ঢাকার কাছাকাছি যে কোনো একটি রিসোর্ট থেকে। সেসব রিসোর্টে গেলে গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশের স্বাদ মিলবে। মিলবে অপার আনন্দও। সবচেয়ে বড় কথা, অল্প বাজেটের মধ্যে ঘোরাঘুরি করা যাবে। দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসা যাবে। চাইলে রাতযাপন করা যাবে।
যানজট এড়িয়ে কুসুম সকালে বেরিয়ে পড়ুন ঢাকার কাছাকাছি কোনো রিসোর্টের উদ্দেশে। কম খরচে আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি মিশে যান প্রকৃতির সঙ্গে।
নক্ষত্রবাড়ি: প্রকৃতি-ভ্রমণপ্রেমীদের মনের মতো একটি রিসোর্ট শ্রীপুরের (গাজীপুর) রাজাবাড়িতে শিল্পী দম্পতি তৌকির-বিপাশার গড়ে তোলা সৌন্দর্যমণ্ডিত ‘নক্ষত্রবাড়ি’। প্রায় ২৫ বিঘা জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা রিসোর্টটিতে দিঘি, সুইমিংপুল, কৃত্রিম ঝরনা, রেস্তোরাঁ, কনফারেন্স সেন্টারসহ নানা সুবিধা রয়েছে। থাকার জন্য আবাসিক হলের পাশাপাশি রয়েছে– পুকুরের পানির ওপর কাঠ-বাঁশের সমন্বয়ে নির্মিত ১১টি কটেজ। পুকুরের পশ্চিম পাশে গজারি গাছ দিয়ে নির্মিত এসব কটেজের ওপর রয়েছে ছনের ছাউনি। এখানে বসে রাতের জোছনা বা পূর্ণিমা উপভোগ করাসহ ঝিঁঝি পোকার ডাক, ব্যাঙের ডাক শোনা যায়। পুকুরের পূর্ব পাশে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের দরজা-জানালা সংবলিত একটি ঘর। রিসোর্টে বাংলা, ইন্ডিয়ান, চায়নিজ, থাই, কন্টিনেন্টাল খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। কটেজ অনুযায়ী দরদামে রয়েছে তারতম্য। দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে চাইলে গুনতে হবে ৫০০ টাকা।
হেরিটেজ রিসোর্ট: মাধবদীর (নরসিংদী) নওয়াপাড়ায় প্রায় ১৫০ বিঘা জায়গাজুড়ে নির্মিত হয়েছে নানা সুবিধা ও বিনোদন সংবলিত ‘হেরিটেজ রিসোর্ট’। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ধরে ৪০ কিলোমিটার অতিক্রম করলেই দেখা মিলবে রিসোর্টটির। দর্শনার্থী বা অতিথিদের অবকাশ যাপনের জন্য রয়েছে আধুনিক কটেজ, পুল ভিলা, ওয়াটার ভিলা, ওয়েভ বিচ, জিম, সুইমিং পুল, স্পা, মাল্টি কুজিন রেস্টুরেন্ট, কনফারেন্স হল, কালচারাল হল, কনভেনশন সেন্টারসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যবস্থা।
সবুজে মোড়ানো রিসোর্টে বোট রাইডিং, ফিশিংয়ের ব্যবস্থার পাশাপাশি শিশুদের জন্য রয়েছে কিডস ওয়াটার জোন, কিডস জোন, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেমস জোন, খেলার মাঠসহ নানা আয়োজন। এ ছাড়া রিসোর্ট ঘুরে দেখার জন্য ক্লাব কার সুবিধা, পূর্ণিমা রাতে সময় কাটানোর জন্য মুন সিন কর্নার রয়েছে। রাতযাপনের জন্য তালতলা ভিলেজ (প্রতি রাত ৮,৫০০ টাকা), ভিলা’স (প্রতি রাত ১১,০০০ টাকা) এবং ওয়াটার কটেজ (প্রতি রাত ১৩,০০০ টাকা)– তিনটি ক্যাটাগরির রুম রয়েছে। রুম ভাড়ার সঙ্গে ভ্যাট এবং সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য। রয়েছে বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ডিসকাউন্ট অফার।
ছুটি রিসোর্ট: ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন গ্রামীণ আবহে তৈরি ‘ছুটি রিসোর্ট’ প্রায় ৫০ বিঘা জায়গাজুড়ে গাজীপুরের সুকুন্দি গ্রামে গড়ে উঠেছে। অবকাশ কেন্দ্রটিতে নৌভ্রমণ, সংরক্ষিত বৃক্ষের বনে তাঁবু টানানোর ব্যবস্থার পাশাপাশি রয়েছে ছনের তৈরি ঘর, কটেজ, বার্ড হাউস, ভেষজ গার্ডেন, মাছ ধরার ব্যবস্থা, ফল-সবজি-ফুলের বাগান, দুটি পিকনিক স্পট, গ্রামীণ পিঠার ব্যবস্থা, আধুনিক রেস্টুরেন্ট, দুটি খেলার মাঠ এবং কিডস জোন। রিসোর্টটিতে পাখির কলরব, বাদুড়, শিয়ালের হাঁক, জোনাকি আলো ও ঝিঁঝিঁ পোকার গুঞ্জন প্রতি মুহূর্তে গ্রামের রাতের কথা মনে করিয়ে দেবে। পূর্ণিমা রাতে বৈদ্যুতিক আলো নিভানো থাকায় ভরা পূর্ণিমায় জোসনার রাত পূর্ণ উপলব্ধি করতে পারবেন। রিসোর্টের অতিথিদের বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফল উপহার দেওয়ার পাশাপাশি পাওয়া যাবে সকালের নাশতায় চালের রুটি, চিতই পিঠা, ডাল ভুনা, সবজি ও মুরগির গোশত। রিসোর্টের তিনটি লেকে নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে যেমন খুশি মাছ শিকার করা যাবে। এ ছাড়া রয়েছে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন খেলার ব্যবস্থা, ২১টি এসি, নন-এসি কটেজ, সুইমিংপুল এবং দুটি কনফারেন্স রুম। রিসোর্টের রেস্টুরেন্টে বাংলা, ইন্ডিয়ান, চায়নিজ, থাই এবং কন্টিনেন্টাল খাবার পাওয়া যাবে।
রিসোর্টে ২৪ ঘণ্টার জন্য কটেজ ভাড়া নিতে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা, কনফারেন্স রুমের জন্য ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা, শতজনের পিকনিকের জন্য প্রায় ৯০ হাজার টাকা গুনতে হবে। বিভিন্ন উপলক্ষে রিসোর্টে ডিসকাউন্ট ও প্যাকেজ অফার থাকে।
সায়রা গার্ডেন রিসোর্ট: গ্রামের নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রায় ৩০ বিঘা জমির ওপর রাজধানী থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরে মদনপুরের (নারায়ণগঞ্জ) হেদায়েতপাড়ায় গড়ে তোলা হয়েছে ‘সায়রা গার্ডেন রিসোর্ট’। বিনোদন কেন্দ্রটিতে রয়েছে সাত ধরনের রুম– কনফারেন্স হল, টিভি, এসি, ওয়াইফাই, জিমনেশিয়াম, জেনারেটর, সুইমিংপুল, বারবিকিউ, ফিশিং, লন্ড্রি সার্ভিস, কার পার্কিং, গরম এবং ঠান্ডা পানি সরবরাহসহ আধুনিক সব সুবিধা। রিসোর্টের রেস্টুরেন্টে বাংলা, থাই ও চায়নিজ খাবারের পাশাপাশি ওপেন রেস্টুরেন্ট, মিনি জুসবার এবং বারবিকিউ সুবিধা রয়েছে।
রিসোর্টের সাত ক্যাটাগরির রুমের যে কোনো একটিতে থাকতে হলে প্রতি রাতের জন্য ৪,৫০০ থেকে ১১,০০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হবে। রয়েছে সকাল, দুপুর, রাতের খাবারসহ বিভিন্ন প্যাকেজ। রয়েছে সারাদিনের ডে লং প্যাকেজও (বিভিন্ন শর্ত, সুযোগ-সুবিধা ও সেবার মান অনুযায়ী মূল্য ৮৫০ থেকে ১,২০০ টাকা)। রিসোর্টে সময়ভেদে ভাড়া ও বিভিন্ন প্যাকেজ রেট পরিবর্তন হয়।
মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ব্রিজ থেকে এক কিলোমিটার দূরে মুন্সীগঞ্জের বালুয়াকান্দিতে গড়ে উঠেছে ‘মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট’। রিসোর্টটির প্রধান গেট দিয়ে ঢুকেই সুসজ্জিত রিসিপশন। তার পর চোখে পড়বে সুন্দর করে সাজানো ডাইনোসর, মাছ এবং বাঘের প্রতিকৃতিগুলো। রিসোর্টে ঢুকে ডান দিক দিয়ে হাঁটলে চোখে পড়বে একটি মিনি চিড়িয়াখানা। যেখানে বানর, চিত্রা হরিণ, কালিম পাখি, খরগোশ, লজ্জাবতী হনুমান, কোয়েল পাখি, কুমির, কাছিমসহ অনেক কিছু রয়েছে। রিসোর্টের মধ্যে একটি সুন্দর বাগানসহ মাঠ, বসার সুব্যবস্থা, ছোট পরিসরে একটি লেক রয়েছে। রয়েছে একটি মিনি পার্ক, যেখানে রয়েছে পেন্ডুলাম পাইরেট শিপ, মেরিগো রাউন্ড, প্যাডেল বোট, ব্যাটারি কার, নাগরদোলা, সাইকেল চালনা এবং মিকি মাউস বাইক ইত্যাদি রাইড। এ ছাড়া রয়েছে বিশাল দুটি পানির ফোয়ারা, বটতলা, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, সুইমিং পুল, দুটি পুকুরে মাছ ধরার বিশেষ আয়োজন, খেলাধুলার জন্য বড় মাঠ।
রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা রকমের খাবারের ব্যবস্থা। বারবিকিউ কিচেন, বারবিকিউ গার্ডেনসহ আরও রয়েছে ক্যাজওয়ে ব্রিজ, গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, স্ন্যাকস কর্নার, কপি শপ, পিকনিক কিচেন। এ ছাড়া রিসোর্টের ভেতরে জামদানি ও মিষ্টির কারখানা রয়েছে। থাকার জন্য রয়েছে সুন্দর ফুলের বাগান দিয়ে ঘেরা ও নেপালি কায়দায় সাজানো ১০টি কটেজ।
- বিষয় :
- রিসোর্ট
