ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকার

শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ও আয় বাড়ছে

শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ও আয় বাড়ছে
×

কমডোর মো. জিয়াউল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)

সারোয়ার সুমন

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৩ | ২৩:১৯

সমকাল: সমুদ্রপথে ক্রমেই বাড়ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতও বেশ এগিয়েছে। এই স্রোতে কেন তাল মেলাতে পারছে না বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন?

মো. জিয়াউল হক: এ প্রশ্নের উত্তর অনেক দীর্ঘ। আমি দায়িত্ব নিয়েছি মাস কয়েক আগে। উত্তরটি আমার মুখ থেকে না শুনলে ভালো হয়। তবে এটি বলতে পারি যে, বিএসসি এখন আগের চেয়ে অনেক গতিশীল একটি প্রতিষ্ঠান। আমাদের জাহাজের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বাড়ছে আয়ের পরিমাণও। পুরো সেক্টরে এখন প্রাণ ফিরে এসেছে। এখান থেকেই ঘুরে দাঁড়াবে বিএসসি। সমুদ্রবাণিজ্যে আবার নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখি আমরা।

সমকাল: এক সময় ৩৮টি জাহাজ ছিল বিএসসির। এখন সেটির সংখ্যা নেমে এসেছে সাতে। কীভাবে আবার নেতৃত্ব দেবেন আপনারা?

মো. জিয়াউল হক: ১৯৭২ সালে ‘বাংলার দূত’ নামের একটি জাহাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করে বিএসসি। ১৯৭৪ সাল নাগাদ বিএসসির বহরে ১৪টি জাহাজ যুক্ত হয়। ১৯৮২ সালে ২৭টি জাহাজ যুক্ত হয়। ১৯৮০-এর দশকে বিএসসির বহরে মোট জাহাজের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৮। তবে লাইফটাইম শেষ হয়ে যাওয়ায় ২৫টি জাহাজ পরিত্যক্ত হয়। কমতে কমতে এক পর্যায়ে এটি নেমে আসে দুইয়ে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তিনটি করে মোট ছয়টি জাহাজ কেনা হয় নতুন করে। সর্বশেষ যুক্ত হওয়া ছয়টি জাহাজের তিনটি ‘অয়েল কেমিক্যাল ট্যাঙ্কার’ ও তিনটি ‘বাল্ক ক্যারিয়ার’। এর পর এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় আটে। নতুন আরও চারটি জাহাজ নিয়ে কাজ করছি আমরা। অগ্রগতির এ সূচকই বলছে, এগিয়ে যাচ্ছে বিএসসি।

সমকাল: নতুন চারটি জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া কতটুকু এগিয়েছে?

মো. জিয়াউল হক: জিটুজির ভিত্তিতে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাঙ্কার এবং দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ কেনার প্রকল্প গত ১৮ এপ্রিল অনুমোদন করেছে একনেক। এখন বহরে থাকা সাতটি জাহাজের মধ্যে তিনটি ট্যাঙ্কার জাহাজ। তবে নতুন করে যেসব ট্যাঙ্কার জাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর পরিবহন সক্ষমতা আগেরগুলোর দ্বিগুণেরও বেশি। নতুন জাহাজগুলোর একেকটির পরিবহন সক্ষমতা হবে সর্বনিম্ন ৮৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টন। নতুন জাহাজ যুক্ত হলে পাল্টে যাবে বিএসসি।

সমকাল: বিএসসি এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এটি ধরে রাখতে নতুন কী পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন?

মো. জিয়াউল হক: এক যুগ আগেও বিএসসি ছিল লোকসানি প্রতিষ্ঠান। তবে গত এক যুগ ধরে লাভে আছে প্রতিষ্ঠানটি। গত অর্থবছরেই প্রতিষ্ঠানটির লাভ ২২৫ কোটি টাকা ছাড়ায়। আগামী অর্থবছর লাভের অঙ্কে নতুন রেকর্ড হবে বলে আশা করছি আমরা। এদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ বাবদ পাওয়া ক্ষতিপূরণের অর্থ ইতোমধ্যেই আমাদের অ্যাকাউন্টে যোগ হয়েছে।

আরও পড়ুন

×