ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

বৃহস্পতিতে প্রাণের খোঁজে ‘জুস’

বৃহস্পতিতে প্রাণের খোঁজে ‘জুস’
×

মোহাম্মদ উমন

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০

কোথাও প্রাণের উপস্থিতির একটু সম্ভাবনা দেখতে পাওয়া গেলেই সেটি পুরোপুরি খতিয়ে দেখার জন্য যা করা দরকার, সেটাই করছেন বিজ্ঞানীরা। বৃহস্পতি গ্রহের উদ্দেশে এরই মধ্যে রওনা হয়েছে একটি মহাকাশযান। নাম তার ‘জুস’। বৃহস্পতির বরফে ঢাকা তিনটি উপগ্রহের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে নজর থাকবে ইউরোপার দিকে।

প্রাণের আবির্ভাবের জন্য কোন শর্ত পূরণ করতে হয়, তা আমরা জানি। আজ পৃথিবীতে যেসব উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে কোটি কোটি বছর ধরে, তাদের বিবর্তন ঘটেছে। সমুদ্রই সেই বৈচিত্র্যের উৎস। সেখানেই প্রথম এককোষী জীবের আবির্ভাব ঘটেছিল। সমুদ্রের তলদেশে গরম পরিবেশই ছিল প্রাণীর আঁতুড়ঘর। সেখানে জীবাণু প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেত। বৃহস্পতি গ্রহের তিনটি উপগ্রহের মধ্যে ইউরোপা প্রাণের বিকাশের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। কারণ, বাকি দুটি উপগ্রহের তুলনায় ইউরোপার কক্ষপথ বৃহস্পতির আরও কাছে। ফলে জোয়ার-ভাটার টানে সেখানে আরও বেশি উত্তাপ সৃষ্টি হওয়ার কথা। সেখানে সমুদ্রের তলদেশে উষ্ণ উৎসও থাকতে পারে। জুস মহাকাশযান এমন উৎসের লক্ষণ শনাক্ত করার চেষ্টা করবে। হাবুল টেলিস্কোপ ইউরোপার বুকে জলীয় বাষ্পের স্তর আবিষ্কার করেছিল। পৃথিবীর গিজারের মতো সেখানেও বরফের ভাগ দিয়ে পানি শূন্যে মাথা চাড়া দেয়।

গবেষক ড. গানা পার্টিয়ানকিনা বলেন, ‘ইউরোপাতেও এমন জেটের মতো পানির ফোয়ারা রয়েছে। সেই ধারণা সত্য হলে প্রথমবার সেই পানির পরিমাপ করতে পারব আমরা। উপগ্রহটির উপরিভাগ অথবা বরফের পাদদেশ থেকে হয়তো সেই পানি আসছে। সেই দিক থেকে আমি ইউরোপার বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী।’

এ ক্ষেত্রে ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সেই ক্যামেরার ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি এখানে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেটি বৃহস্পতির উপগ্রহগুলোর ১৩টি স্পেকট্রাল রেঞ্জে ছবি তুলবে। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বরফের জগতের উপাদান সম্পর্কে জানা যাবে। সেই সঙ্গে উপাদানগুলোর বিকাশের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে।

এই মহাকাশযান ইউরোপার এইচডি ছবির ভিত্তিতে মানচিত্র তৈরি করবে। বাছাই করা কিছু অঞ্চলের আরও বিস্তারিত ছবি তোলা হবে। যেমন– বরফের স্তরের সেসব অংশ, যেখানে প্রবল উত্তাপের কারণে পানি গলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে অন্য কোনো মহাকাশযান সেখানে প্রাণের সন্ধানে অবতরণ করতে পারে। ইউরোপায় এরই মধ্যে এমন উষ্ণ অঞ্চল আবিষ্কার করা হয়েছে। চার বছর ধরে জুস বৃহস্পতির উপগ্রহগুলো পরীক্ষা করবে। অবশ্য বৃহস্পতি গ্রহ সম্পর্কেও নতুন তথ্য জানার চেষ্টা চালানো হবে, যার অধিকাংশই পৃথিবীর বিকাশ সম্ভব করেছিল। সে কারণেই অন্যান্য নক্ষত্রের আশপাশের গ্রহে প্রাণের সন্ধানের ক্ষেত্রে বৃহস্পতিকে মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ড. গানা পার্টিয়ানকিনা বলেন, আমরা যদি জানতে পারি যে, এই উপগ্রহগুলো সত্যিই বাসযোগ্য; সেক্ষেত্রে দূরের কোনো নক্ষত্র জগতে প্রাণ আবিষ্কারের সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। বৃহস্পতির মতো গ্রহ পাওয়া যাবে। এখানে প্রাণের বিকাশ সম্ভব হলে, সেখানেও সেটা সম্ভব হবে।

মহাকাশের গভীরে এরই মধ্যে হাজার হাজার গ্রহ আবিষ্কার হয়েছে। মানুষের নাগালের বহু দূরের অনেক জগতে বৃহস্পতির মতো গ্যাসীয় গ্রহ রয়েছে। জুস অভিযান হয়তো অন্যান্য নক্ষত্রের চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কেও আমাদের জ্ঞান বাড়াতে পারবে। 

সূত্র : ডয়চে ভেলে

আরও পড়ুন

×