ফিট থাকতে জিমে...
তাসনিম প্রভা
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৩ | ০৫:৫৭
ফিট থাকতে কে না চায়? তবে সে জন্য প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত খাওয়া-দাওয়া আর শরীরচর্চা। আজকাল অনেকেই ফিট থাকতে জিমে গিয়ে ঘাম ঝরাচ্ছেন। যারা নিয়মিত জিম করেন তাদের খাদ্য তালিকা অন্যদের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন হয়।
শরীরচর্চার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। যত ছোট থেকে ব্যায়াম করা যায় ততই ভালো। তবে জিম বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত জিমে গিয়ে ব্যায়াম করার উপযুক্ত সময় হলো ১৭-১৮ বছরের পর। যদি শারীরিক গঠন যথেষ্ট পরিমাণে হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে এর আগেও জিম শুরু করা যায়। শরীর সুস্থ রাখার জন্য শরীরচর্চা যেমন জরুরি, তার থেকেও বেশি জরুরি সঠিক খাদ্যাভ্যাস। যারা শরীরচর্চা বা জিমের সঙ্গে যুক্ত আছেন সবারই প্রশ্ন, জিম করার আগে এবং পরে কী খাওয়া উচিত বা খেতে হবে। এ নিয়ে নানা তথ্য জানিয়েছেন রাজধানীর আফতাবনগরের সেইফ জিমের ইন্সট্রাক্টর ও পুষ্টিবিদ ডা. আজহারুল ইসলাম নিয়ন।
জিম করার আগে কী খাওয়া উচিত
জিম করার আগে এমন খাবার খাওয়া প্রয়োজন, যে খাবারে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, সরল শর্করা এবং অসম্পৃক্ত স্নেহ থাকে। সকালে জিম করতে যাওয়ার আগে আপনি হালকা কিছু খাবার গ্রহণ করতে পারেন যেমন– দুধ, কলা, আপেল, ডিম (যাদের কোলেস্টেরল এর মাত্রা বেশি থাকে তারা কুসুম খাওয়ার আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন), বাদাম, ব্রাউন ব্রেড ইত্যাদি। তবে মনে রাখবেন, খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিন্তু জিমে যাওয়া যাবে না। আপনাকে খাবারগুলো গ্রহণ করার পরে অন্তত এক ঘণ্টা পর জিম করতে যেতে হবে। না হলে, আপনার হজমে সমস্যা থেকে শুরু করে পেটে ব্যথা পর্যন্ত হতে পারে।
জিম করার পর কী খেতে হবে
জিম করার ১০- ১৫ মিনিট পর হালকা খাবার গ্রহণ করে আরও এক ঘণ্টা পর ভারী নাশতা করতে পারেন। যেটিতে শর্করা, আমিষ, স্নেহ সব কিছুই থাকবে। জিম করার পর শরীরের মাসল ভেঙে যায়। সেই ভাঙা মাসলকে ফের চাঙ্গা করতে বিশেষভাবে প্রয়োজন হয় আমিষ জাতীয় খাদ্যের। আমিষের জন্য ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন। এ ছাড়া, কয়েকটি কলা, হালকা গরম দুধ, বাদাম, কিশমিশ খেতে পারেন।
খালি পেটে না ভরা পেটে
মনে রাখবেন, খালি পেটে জিম করার ফল গুরুতর হতে পারে। জিমে যাওয়ার আগে আমিষযুক্ত খাবার খাওয়া খুব দরকার। ব্যায়ামের ফলে যে চাপ পড়বে, সেটি শরীরের শর্করার মাত্রা কমিয়ে দিতে পার। যার ফলে হাইপোগ্লেসিমিয়া হয়ে শরীর অবসন্ন হয়ে যেতে পারে। তাই কখনোই খালি পেটে ব্যায়াম করতে যাবেন না।
কিছু টিপস
• হালকা কিছু খাবার ও এক গ্লাস পানি খেয়ে নিন ব্যায়াম শুরু করার ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে।
• ওয়ার্কাউট শুরু করার আগে ওয়ার্মআপ করে নিন। না হলে চোট লাগতে পারে। কাজেই জগিং, সাইক্লিং, রানিং জাতীয় কার্ডিওভাসকুলার এক্সারসাইজ করুন। শরীরে রক্ত চলাচল বাড়লে চোট লাগার প্রবণতা কমে যায়।
• ব্যায়ামের মাঝে মাঝে একটু পানি পান করুন।
• ওয়ার্কআউট শেষ করার ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান।
• সব সময় চিবিয়ে খাবার খাবেন। ভালো করে চিবিয়ে খাবার না খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে।
• সবসময় খাবার খাওয়ার কিছু সময় আগে হালকা পানি খেয়ে নিন। পানি খাবার হজম করতে সাহায্য করে।
• কখনও খালি পেটে থাকা যাবে না। অল্প পরিমাণে হলেও খেতে হবে। খালি পেটে থাকার পর, হঠাৎ করে অনেকটা খেলে শরীরে মেদ হয়।
• যতটা সম্ভব চিন্তা আর চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করবেন। এতে আপনার শরীর অনেক ভালো থাকবে, পাশাপাশি মনও ভালো থাকবে। কারণ, অতিরিক্ত চিন্তা খারাপ প্রভাব ফেলে।
• অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে।
মডেল: প্রিন্স; ছবি : ফয়সাল সিদ্দিক কাব্য