ভাষা শিখে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি
আনন্দ আর আড্ডায় ভিন দেশের ভাষা শিখে উচ্চশিক্ষায় ফুল ফান্ডেড বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারেন আপনিও... - মডেল: মৌরিন, তাসু ও মিশুক; ছবি: সাহস
আলাউদ্দিন আলাদিন
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৩৫ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
উচ্চশিক্ষায় আইইএলটিএস, জিআরই বা টোয়েফলের বাইরেও রয়েছে বিশেষ সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে শেখা যায় নতুন একটি ভাষাও। উচ্চশিক্ষায় পরিপূর্ণ স্কলারশিপ পেতে ভাষা দক্ষতা নিয়ে লিখেছেন আলাউদ্দিন আলাদিন
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়ার কথা উঠলেই বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর মাথায় প্রথমে আসে আইইএলটিএস, জিআরই বা টোয়েফলের কথা। এর বাইরেও পুরোপুরি বৈধ ও কার্যকর একটি পথ আছে, যা দিয়ে সম্পূর্ণ বৃত্তি নিয়েও বিদেশে পড়াশোনা করা যায়। সেই পথটি হলো একটি বিদেশি ভাষা শেখা। ঢাকায় বিভিন্ন দেশের সরকার পরিচালিত সাংস্কৃতিক ও ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে জার্মান, ফরাসি, চীনা, কোরিয়ান বা রুশ ভাষা শিখে সরাসরি সেই দেশের সরকারি বৃত্তির জন্য আবেদন করা যায়।
গ্যোটে ইনস্টিটিউট
ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত গ্যোটে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ ১৯৬১ সাল থেকে জার্মান ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছে। দীর্ঘদিন সংস্কার কাজের পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে ধানমন্ডির ১০ নম্বর বাড়িতে নতুন করে চালু হওয়া এই কেন্দ্রে এখন জার্মান ভাষার কোর্স, পরীক্ষা এবং একটি ডাড বা জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস এবং তথ্যকেন্দ্রও রয়েছে। অর্থাৎ এখান থেকে জার্মান ভাষা শিখে সরাসরি ডাডের বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদনের প্রস্তুতি নেওয়া যায়, যা জার্মানির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক থেকে পিএইচডি পর্যন্ত অর্থায়ন করে। বিস্তারিত জানতে https://www.goethe.de/en/index.html
–এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা ১৯৫৯ সাল থেকে বাংলাদেশে ফরাসি ভাষা শেখাচ্ছে। বর্তমানে ধানমন্ডির মূল কেন্দ্রের পাশাপাশি গুলশান ও উত্তরায় প্রতিষ্ঠানটির আরও দুটি শাখা রয়েছে। বর্তমানে তিনটি কেন্দ্র থেকে কোর্স পরিচালনা করছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ছয় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এখানে ফরাসি ভাষা শেখে। ডিইএলএফ ও ডিএএলএফ-এর মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সনদ অর্জনের পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ফ্রান্সের মাধ্যমে ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় আবেদন করতে পারে। afdhaka.org –এই ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে বিস্তারিত।
কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে এইচএসকে বা চীনা ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা কেন্দ্র চালু আছে। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটে এইচএসকে প্রস্তুতিমূলক কোর্স করানো হয়। এইচএসকেতে ভালো স্কোর করলে তা চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ বা সিএসসি-র জন্য আবেদনকে অনেক শক্তিশালী করে তোলে। বেশিরভাগ প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আবেদনের সময়সীমা থাকে, যদিও নির্দিষ্ট বৃত্তি বা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ১২০০-র বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে কোনো না কোনো সরকারি বা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বৃত্তি নিয়ে অধ্যয়নে যায়। চীনে অবস্থানরত মোট বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজারের কাছাকাছি বলে আমাদের জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত। এই প্রতিষ্ঠানে ভাষা শিখতে কিংবা বিস্তারিত জানতে ci.cn/en –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।
কিং সেজং ইনস্টিটিউট
ঢাকায় বর্তমানে দুটি কিং সেজং ইনস্টিটিউট সক্রিয়। এর একটি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বা আইইউবিতে এবং অন্যটি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে বা এআইইউবিতে। যেখানে কোরিয়ান সরকারের অধীনে কোরিয়ান ভাষা শেখানো হয়। বাংলাদেশ নিয়মিতভাবেই গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ বা জিকেএস-এর জন্য যোগ্য দেশের তালিকায় থাকে, আর ঢাকার কোরিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রতি বছর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় স্তরের জন্যই আবেদন প্রক্রিয়া চালু হয়। /www.iksi.or.kr/
lms/main/main.do –এই ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে বিস্তারিত।
রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
রুশ সরকারের বৃত্তির কোটা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ঢাকার রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা রাশিয়ান হাউস হলো রাশিয়ার সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশে রুশ ভাষা, শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রচারের কাজ করে। ঢাকার রুশ হা্উসের তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে এই কোটা ছিল মাত্র ৬৫টি, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০টিতে। স্নাতক থেকে পিএইচডি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে এই বৃত্তি দেওয়া হয়, আর রুশ ভাষা শেখার সুযোগও তৈরি হয়েছে রুশ হাউসের মাধ্যমে। ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত সেন্টার অব সায়েন্স অ্যান্ড কালচার হিসেবে এটি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা: ৪২, ভাষাসৈনিক এম এ মতিন সড়ক, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৫।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট
দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর বাইরে দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠানও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। সেটি হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট। ১৯৭৪ সাল থেকে বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শিক্ষায় কাজ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রায় ৫০ জন শিক্ষক নিয়ে পরিচালিত এই ইনস্টিটিউটে আরবি, চীনা, ফরাসি, জার্মান, ইতালীয়, জাপানি, কোরিয়ান, ফার্সি, রুশ, স্প্যানিশ, তুর্কি, হিন্দিসহ মোট চৌদ্দটির বেশি ভাষায় কোর্স করানো হয়। বছরজুড়ে এখানে কোর্স পরিচালিত হয়। যে কোনো সময়, যে কোনো বিষয়ে এখানে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ভর্তি হওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এই ভাষা ইনস্টিটিউটে ভাষা শেখার বিস্তারিত জানতে www.iml-du.ac.bd –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।
অন্যান্য ভাষা
এছাড়াও বিভিন্ন দেশের দূতাবাস স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে সেই দেশের ভাষা শিখে ফুল ফান্ডেড বৃত্তি পেতে পারেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জাপানের ভাষা। জাপানের এন-ফোর বা এন-ফাইভ পরীক্ষা দিয়েও ভালো বৃত্তি পেতে পারেন জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। সৌদি আরব, কাতার, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কদর বেড়েছে। আগ্রহ থাকলে আরবি ভাষা শিখেও এসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি পেতে নতুন একটি ভাষাও বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার মতো
দেশগুলোর ক্ষেত্রে; যেখানে বৃত্তির সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। ঢাকায় বসে তুলনামূলক কম খরচে ভাষার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরির সুযোগ আপনিও নিতে পারেন!