গণিতের জটিল ধাঁধা সমাধানের দাবি করল ওপেনএআই
ছবি-সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:০০
প্রায় এক শতাব্দী গণিতবিদদের ধাঁধায় ফেলে রাখা একটি জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধানের দাবি করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। চ্যাটজিপিটির উদ্ভাবক জানিয়েছে, তারা ‘নেভিয়ার-স্টোকস’ সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়েছে। এটি কঠিন কিছু গাণিতিক জট খোলার লক্ষ্যে ক্লে ম্যাথমেটিক্স ইনস্টিটিউট ঘোষিত সাতটি ঐতিহাসিক ‘মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেমের’ একটি।
তবে ওপেনএআইয়ের এই ঘোষণার পরপরই একটি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গণিতের অধ্যাপক ট্রিস্টান বাকমাস্টার দাবি করেছেন, তিনি এবং অ্যানথ্রোপিকের এক গবেষক সমস্যাটি সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছার খবর পেয়ে ওপেনএআই তাদের কাজের গতি নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দেয়।
অধ্যাপক বাকমাস্টার জানান, তাদের গবেষণার খসড়া কাজ জমা ছিল ওপেনএআই-এর ‘কোডেক্স’ মডেলে, যেটি মূলত কম্পিউটার প্রোগ্রাম লেখার কাজে ব্যবহার হয়। ফলে ওপেনএআই দলের পক্ষে সেই গবেষণার তথ্য-উপাত্ত দেখা হয়ে থাকতে পারে।
নিজের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বাকমাস্টার লিখেন, ‘আমি জানি না তাদের মডেল কী করেছে বা কীভাবে করেছে। আমাদের ডেটা ব্যবহার করা হয়েছিল কিনা, তা-ও আমার জানা নেই। তবে আমি কাউকে আনুষ্ঠানিক অভিযুক্ত করছি না।’
তবে গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ওপেনএআই গবেষক সেবাস্তিয়ান বুবাক স্পষ্ট ভাষায় এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ওপেনএআই তাদের সার্ভারে শেয়ার করা ওই দুই গবেষকের কোনো কাজ বা উপাত্ত ব্যবহার করেনি।
এক প্রতিবেদনে ওপেনএআই বলেছে, দুটি ‘মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেম’ সমাধানের গুজব শুনেই মূলত তারা এই প্রকল্পে অনুপ্রাণিত হয়। তবে তাদের প্রোডাক্ট ব্যবহারের কারণে অন্য গবেষকদের ডেটা ওপেনএআই মডেলের মান উন্নয়নে পরোক্ষভাবে সহায়তা করলেও করতে পারে।
সংস্থাটি জানায়, তাদের নতুন ‘জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা’ মডেলের চেয়েও শক্তিশালী একটি অভ্যন্তরীণ এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার স্বয়ংক্রিয় ‘এআই এজেন্ট’ একযোগে এই জটিল প্রক্রিয়ায় কাজ করে মাত্র ৮৮ ঘণ্টায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে।
এক ব্লগ পোস্টে ওপেনএআই গবেষকরা লিখেছেন, ‘আমাদের কাজের অন্যতম লক্ষ্য হলো, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের এমনভাবে ক্ষমতায়ন করা, যাতে তারা মানবজাতির কল্যাণে গবেষণা ও প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে পারেন।’
অত্যাধুনিক এআই মডেলগুলো কীভাবে গণিত শাস্ত্রের চিরাচরিত ক্ষেত্রকে নতুন রূপ দিচ্ছে, এই সাফল্য তারই সাম্প্রতিকতম প্রমাণ বলে উল্লেখ করেছে ওপেনএআই।
এর আগে গত মে মাসে ৮০ বছরের পুরনো আরেকটি গাণিতিক সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি অর্জনের দাবি করেছিল ওপেনএআই। গুগল ডিপমাইন্ডও তাদের এআই মডেলের মাধ্যমে গণিতে বড় ধরনের সাফল্যের দাবি করেছে।
নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যার সমাধানকে ‘গত ১২ মাসে দেখা প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এক বিস্ময়কর চূড়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন গবেষক সেবাস্তিয়ান বুবাক।
নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যার মূল বিষয় হলো- বাতাস বা পানির মতো তরল পদার্থের গতিশীলতা বর্ণনায় ব্যবহৃত সমীকরণগুলো বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে অকার্যকর হয়ে পড়ে কিনা।
ওপেনএআইয়ের গাণিতিক প্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে- হ্যাঁ, সমীকরণগুলো নির্দিষ্ট অবস্থায় কার্যকর থাকে না। তরলের গতি অসম্ভব ও অসীম মাত্রায় পৌঁছার ফলে মাঝে মাঝে এগুলো বিস্ফোরিত হয় বা ভেঙে পড়ে।
ক্লে ম্যাথমেটিক্স ইনস্টিটিউটের ঘোষণা অনুযায়ী, পুরস্কার হিসেবে ওপেনএআই ১০ লাখ ডলার পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু প্রায় ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য নিয়ে শেয়ারবাজারে আত্মপ্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা পুরস্কারের ওই অর্থ দাবি করবে না। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
- বিষয় :
- এআই
- চ্যাটজিপিটি
- গণিত