ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা জরুরি

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা জরুরি
×

সমকাল সভাকক্ষে ‘পরীক্ষার ফলাফল: বন্ধ হোক শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫৮ | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

পরীক্ষার ফলাফল ও মানসিক চাপে কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যার ঘটনা  বাড়ছে। কেবল জিপিএ কিংবা প্রথাগত সাফল্যের প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে কোমলমতি জীবনগুলো ঝরে পড়ছে। এ প্রবণতা রোধের লক্ষ্যে গত ১৯ জুলাই সমকাল আয়োজন করে ‘পরীক্ষার ফলাফল: বন্ধ হোক শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা’ বিষয়ে সংলাপ

গওহার নঈম ওয়ারা
গবেষক ও লেখক

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমরা লক্ষ্য করেছি, এসএসসি ও এইচএসসির ফল প্রকাশের পরপরই এই হার সবচেয়ে বেশি বাড়ে। গতবার ফল প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার ভেতর ১৮ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে, যার ১৭ জনই ছিল মেয়ে। সাধারণত একজন মারা গেলে অন্তত ১০ জন এরকম চেষ্টা করেছিল বলে ধরা হয়। তাই সংখ্যাটা কম মনে হলেও বাস্তবতা ভিন্ন এবং প্রতিটি ঘটনাই বেদনাদায়ক এবং মর্মান্তিক।
সবাই যে ফেল করে আত্মহত্যা করে, তা কিন্তু না। অনেকে সামান্য কম নম্বরের জন্য কাঙ্ক্ষিত গ্রেড পায়নি, আবার ফেল করেছে এটা শুনে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। পরে দেখা গেছে, সে পাস করেছে! গত বছর এসএসসির ফল প্রকাশের পর জিপিএ ৫ না পাওয়ায় মানিকগঞ্জের যে মেয়েটা আত্মহত্যা করল, সে কিন্তু ঢাকায় তার বোনের বাসায় অবস্থানকালে ভালো থাকলেও মানিকগঞ্জে ফিরে সহপাঠীদের চাপের শিকার হয়। সে ছোট থেকে ফার্স্ট গার্ল ছিল, জিপিএ ৫ না পাওয়ায় তার ওপর যে মানসিক চাপ তৈরি করা হয়,  সে  এটা নিতে পারেনি। নেত্রকোনায় আরেক মেধাবী ছাত্রী স্কুলগেটে শিক্ষকদের কটূক্তির শিকার হয়ে রেজাল্ট না জেনেই বাড়ি গিয়ে আত্মহত্যা করে। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পর জানা গেল, মেয়েটি পাস করেছে।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো অনলাইন অ্যাবিউজ বা সাইবার বুলিং। ফল প্রকাশের পর ফেসবুকে অনেক শিক্ষিত মানুষও খুব নিষ্ঠুর ও অমানবিক মন্তব্য করেন, যা সংবেদনশীল কিশোর-মনকে ভেঙে দেয়। এ ছাড়া আত্মহত্যার উপকরণের সহজলভ্যতা পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে। ওড়না বা শাড়ির পাশাপাশি প্রেসক্রিপশন ছাড়া সস্তায় পাওয়া ট্যাবলেট বা কীটনাশক খেয়ে গত বছর ১৭ জন মারা গেছে।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাও বড় প্রশ্নের মুখে। সর্বশেষ এসএসসিতে ছয় লাখের বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে। মাধ্যমিক স্তরের পড়াশোনার মান যেভাবে নষ্ট হচ্ছে এবং রাজনৈতিক বা ইগোর কারণে পাস-ফেলকে যেভাবে দেখা হচ্ছে, তা হতাশাজনক। আমাদের পড়াশোনা উচ্চশিক্ষামুখী। একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি ফেল করলে সে মনে করে তার সব শেষ। বন্ধুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, সে কই যাবে! সে তো কোথাও ভর্তি হতে পারছে না। আবার তাকে একই পরীক্ষা দিতে হবে। নতুন করে পরীক্ষার ফিসসহ নানা বিষয় এখানে যুক্ত হয়। এখানে বিকল্প কিছু করা যায় কিনা এটা নিয়ে ভাবতে হবে। 
আমাদের দেশে কোনো ধারাবাহিক গবেষণা নেই যে কোন পরিবারের বা কোন এলাকার ছেলেমেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা রোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্কুল, অভিভাবক ও সহপাঠীদের পাশাপাশি মিডিয়ার ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আত্মহত্যার খবর শুধু ছাপানো নয়, বরং এই মানসিক সংকট উত্তরণে আমাদের সবাইকে সমাজ ও পরিবার পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মিডিয়াও শুধু আত্মহত্যার খবর না ছাপিয়ে, বিশেষ করে ফল প্রকাশের আগে 
সচেতনতামূলক ফিচার প্রকাশ করতে পারে।

কামাল চৌধুরী
অধ্যাপক, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দেশে শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বৈশ্বিক পরিসংখ্যানেও ২০ বছরের কম বয়সীদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ আত্মহত্যা। অথচ সাময়িক উদ্বেগ ও খবরের শিরোনাম ছাড়া এই সংকট মোকাবিলায় কোনো দীর্ঘমেয়াদি বা কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। আমাদের একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক মানসিকতাই এ সংকটের জন্য প্রধানত দায়ী। শিক্ষাব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যা কেবল জিপিএ বা ভালো ফলাফল অর্জনকারীদেরই মূল্যায়ন করে। পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া বা জিপিএ কমে যাওয়াকে এমনভাবে কলঙ্কিত (স্টিগমাটাইজ) করা হয় যে, কোমলমতি শিশুরা তীব্র মানসিক চাপে পড়ে চরম পথ বেছে নেয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে ক্যারিয়ার গঠন– সব ক্ষেত্রেই অভিভাবক, শিক্ষক ও রাষ্ট্র সফলতার একটি সংকীর্ণ সংজ্ঞা চাপিয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে শিক্ষার্থীদের ‘ইমোশনাল কোশেন্ট’ বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা এবং সহনশীলতা (রেজিলিয়েন্স) বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। পড়াশোনার বাইরে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মতো সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের অভাব শিক্ষার্থীদের হার-জিত স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। শুধু পরীক্ষায় ভালো করা নয়, ছবি আঁকা, গান বা বিতর্কের মতো বহুমুখী দক্ষতাকে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি।
পরিবার, শিক্ষক ও প্রতিবেশীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সংবেদনশীল সমাজ গঠনের মাধ্যমেই শিশু-কিশোরদের নিরাপদ ও সুষম বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

তানসেন রোজ
প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, আঁচল ফাউন্ডেশন

গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষার ফল ও পরীক্ষা চলাকালীন আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই নারী। তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে আত্মহত্যার মূল কারণ তিনটি– প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়ায় অপরাধবোধ বা লজ্জা, পরিবার ও অভিভাবকদের অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ এবং সমাজের অন্যদের সঙ্গে তুলনা। গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী নিজের শোবার ঘরেই আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নেয়। এ জন্য পরীক্ষার সময় এবং ফলাফল প্রকাশের পরবর্তী অন্তত দুই সপ্তাহ শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ ও নজরদারি জোরদার করা জরুরি। এ ছাড়া পারিবারিক ও সামাজিক চাপ কমানোর পাশাপাশি সামগ্রিক প্রতিযোগিতানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা বাড়াতে সরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন– এনসিডিসি, এনআইএমএইচ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও উদ্যোগ নেওয়া দরকার।  বর্তমানে খেলাধুলার অভাব, প্রযুক্তি-আসক্তি এবং শারীরিক সক্রিয়তা কমে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। আত্মহত্যার পেছনে পরীক্ষার খারাপ ফল কেবল একটি ‘ট্রিগার’ বা তাৎক্ষণিক অনুঘটক; নেপথ্যে থাকে দীর্ঘদিনের জমতে থাকা মানসিক চাপ। মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সামাজিক লজ্জা (স্টিগমা) কাটিয়ে কাউন্সেলিং জরুরি। অন্তত ছয় মাস পরপর শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং  মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মিজানুর রহমান
প্রধান শিক্ষক, আলোক শিক্ষালয়

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা রোধ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সার্বিক সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার বিকল্প নেই। আত্মহত্যা কোনো সংকটের সমাধান নয়, বরং এটি একটি সম্ভাবনাময় জীবনের করুণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত সমাপ্তি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে জীবনের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে সৃজনশীল কাজে তাদের ব্যস্ত রাখা জরুরি।
শিক্ষার্থীদের হতাশা ও আত্মঘাতী প্রবণতা দূর করতে বিদ্যায়তনিক পর্যায়ে বিশেষ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। ফলাফল প্রকাশের দিন অনেক সময় শিক্ষার্থীরা তীব্র মানসিক চাপে পড়ে। তাই ফল প্রকাশের মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের একাকী না রেখে স্কুলে অভিভাবকদের সঙ্গে রাখা এবং শিক্ষকদের উপস্থিতিতে ফলাফল হাতে তুলে দেওয়া ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এতে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না পেলেও শিক্ষার্থীরা ভেঙে পড়ে না এবং অভিভাবকদের পাশে পাওয়ায় মানসিক চাপমুক্ত থাকতে পারে।
পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঠিক পরামর্শ দিতে শিক্ষকদের জন্যও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। প্রতিদিনের পাঠদানের বাইরেও শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শন, বুদ্ধিবৃত্তিক খেলা, সাংস্কৃতিক  কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মতো নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। জয়-পরাজয় জীবনেরই অংশ— এই শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। একটি শিশু বা কিশোরের অকালমৃত্যু কেবল একটি জীবন শেষ নয়, পুরো পরিবারকে আজীবন মানসিক যন্ত্রণা দেয়। তাই সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের পাশে থাকাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

লায়লা খন্দকার
 আহ্বায়ক, শিশুরাই সব

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পরীক্ষার খারাপ ফলাফল কেবল এর চূড়ান্ত অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। গবেষণায় দেখা যায়, শৈশবের মানসিক ট্রমা, বিষণ্নতা এবং পরিবারের মানসিক চাপ কিশোর-কিশোরীদের এ পথ বেছে নিতে বাধ্য করে। অনেক পরিবারে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলে চরম বকাঝকা বা বাল্যবিবাহের হুমকি দেওয়া হয়, যা তাদের গভীর মানসিক সংকটে ফেলে দেয়।
আমাদের সমাজে ‘প্যারেন্টাল এডুকেশন’ বা সচেতন অভিভাবকত্বের চরম ঘাটতি রয়েছে। মা-বাবার দায়িত্ব কেবল অন্ন, বস্ত্র ও নিরাপত্তার সংস্থান করা নয়। বরং বয়সভেদে সন্তানদের মানসিক পরিবর্তন ও অনুভূতি বোঝা ও গাইড করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের বিচার করতে হবে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। বয়ঃসন্ধিকালে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশজনিত কারণে কিশোর-কিশোরীরা আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সঠিক পথপ্রদর্শন ও সহানুভূতিশীল আচরণ পেলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্যারেন্টিং যে একটা শেখার বিষয়– এটাও কিন্তু আমরা স্বীকার করি না। 
অন্যদিকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাও তীব্র প্রতিযোগিতানির্ভর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই ‘নিরানন্দ বিদ্যালয়’-এর মতো আজও পরীক্ষার ফলাফল সফলতার একমাত্র মাপকাঠি। তিনি নিরানন্দ বিদ্যালয়কে সশ্রম কারাদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আমরা এ থেকে তো বের হতে পারিনি। শিক্ষার্থী আনন্দ নিয়ে শিখছে কিনা; তার চেয়ে আমরা পরীক্ষার ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে যেন আমরা দেখাতে পারছি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ভালো। এই ধারণাই তো ভুল। শিক্ষার্থী শিখছে কিনা, সামগ্রিকভাবে মানুষ হিসেবে তার বিকাশটা হচ্ছে কিনা, সেটা দিয়ে সাফল্য বিচার করতে হবে। 
অথচ নতুন প্রজন্ম এখন ফ্রিল্যান্সিং করে বা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখে। প্রথাগত সফলতার সংজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ায় তাদের মধ্যে ‘কগনিটিভ ন্যারোয়িং’ তৈরি হয় এবং সম্ভাবনার পথ সংকুচিত হয়ে যায়। 
শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা রোধে দুটি বিষয় দেখা দরকার।  আমাদের এ ধরনের কোনো গবেষণাও নেই। আর পারিবারিক পরিবেশ। অনেক শিক্ষার্থী হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল করেনি। সবাই কিন্তু আত্মহত্যার মতো একটা ভয়ংকর পথ বেছে নেয়নি। তাহলে পার্থক্যটা কোথায়? এটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।
শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া ব্যক্তিক ব্যর্থতা নয়, বরং তা শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা। সবার চাপ নেওয়ার ক্ষমতা সমান নয়। কেউ হয়তো বিষণ্ন। খারাপ ফলাফল হতে পারে ভেবে দুশ্চিন্তা করছে। ফল খারাপ হলে ‘খারাপ কিছু’ করে ফেলতে পারে। আমরা অনেক সময় এই সিম্পটম এড়িয়ে যাই। এ ক্ষেত্রে অভিভাবক, শিক্ষক, সহপাঠীসহ সমাজকে সচেতন হতে হবে।
শিশুদের অভ্যন্তরীণ সহনশীলতা বা ‘রেজিলিয়েন্স’ বৃদ্ধির পাশাপাশি যারা মানসিকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করা জরুরি। পড়ালেখার বাইরে প্রত্যেক শিশুর বহুমুখী দক্ষতাকে স্বীকৃতি দিতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে শিশু-কিশোরদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝে তাদের মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন

×