ক্যালসিয়ামের গুরুত্ব ও ঘাটতির বিপদ
কর্নেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
ক্যালসিয়াম মানবদেহের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান, যার ৯৯ শতাংশ হাড়ের ভেতর জমা থাকে। বাকি ১ শতাংশ রক্ত, মাংসপেশি ও অন্যান্য টিস্যুতে থাকে। এটি হাড় গঠন ও মজবুত রাখার পাশাপাশি স্নায়বিক কার্যক্রম, মাংসপেশির সংকোচন-প্রসারণ, রক্ত জমাট বাঁধা এবং হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে ভাইটাল ভূমিকা পালন করে। এই শারীরবৃত্তীয় কাজ সঠিকভাবে সম্পাদনের
জন্য রক্তে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি আবশ্যক।
ক্যালসিয়াম ঘাটতির লক্ষণ ও জটিলতা
রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়:
lশারীরিক ব্যথা: বিশেষত পায়ে ও পিঠে কামড়ানো ব্যথা হয়।
lহাড় ও দাঁত: হাড় ও দাঁতের ক্ষয় শুরু হয়।
lত্বক ও চুল: চুল ও ত্বক খসখসে হয়ে যায়, নখে ফাটল সৃষ্টি হয়।
lস্নায়বিক জটিলতা: দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে স্মরণশক্তির সমস্যা, অস্থিরতা, হতাশা, অসংলগ্ন আচরণ এবং মতিভ্রম দেখা
দিতে পারে।
lমারাত্মক সংকট: তীব্র মাত্রার ক্যালসিয়ামের অভাবে খিঁচুনি শুরু হতে পারে। শ্বাসনালির মাংসপেশির আক্ষেপের কারণে দম আটকে যাওয়ার মতো সংকট, পেটে ব্যথা এবং হৃদস্পন্দন এলোমেলো বা বন্ধ হতে পারে। হাত-পা কুঁকড়ে আসা, যাকে ‘টিটেনি’ বলে– তাও হতে পারে।
lশিশুদের সমস্যা: শিশুদের উচ্চতা ব্যাহত হয়।
ক্যালসিয়াম গ্রহণের উৎস ও সাবধানতা
একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন ৭০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন।
lখাদ্যের উৎস: ক্যালসিয়ামের সমৃদ্ধ উৎস হলো দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত খাবার (পনির, দধি), সবুজ শাকসবজি, কাজুবাদাম, ফল, চিয়াসিড এবং কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ। কিছু দেশে ময়দা ও পানীয়তেও ক্যালসিয়াম যোগ করে সমৃদ্ধ করা হয়।
lভিটামিন-ডির ভূমিকা: খাদ্যের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ না হলে ওষুধ হিসেবে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত ভিটামিন-ডি সংযুক্ত থাকে, যা ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে।
lপার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: ক্যালসিয়াম গ্রহণের কারণে কারও কারও পেটে সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণের ফলে কিডনিতে পাথর সৃষ্টি হতে পারে এবং কিডনি ও রক্তনালিতে ক্যালসিয়াম জমে যেতে পারে। তাই গ্রহণের সময় এ বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা দরকার।
লেখক : মেডিসিন স্পেশালিস্ট ও এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট, সিএমএইচ, ঢাকা।
- বিষয় :
- ক্যালসিয়াম