ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম
×

 ডা. আফরোজা গণি

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম বা পিসিওএস বর্তমান সময়ে নারীদের মধ্যে অত্যন্ত প্রচলিত একটি হরমোনজনিত সমস্যা। সাধারণত ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। এ রোগে ডিম্বাশয় বা ওভারির চারপাশে ছোট ছোট অনেক সিস্ট জমা হয়, যা দেখতে মালার মতো মনে হয়। যখন শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মেয়েলি হরমোনের চেয়ে পুরুষালি হরমোন বা অ্যান্ড্রোজেনের উৎপাদন বেড়ে যায়, তখন ডিম্বগুলো সঠিকভাবে পরিপক্ব হতে পারে না। ফলে পিরিয়ডের সময় সেগুলো ঠিকমতো বের হতে না পেরে সিস্ট আকারে ওভারিতে জমা হয়। এর ফলে ওভারির আকার বড় হয়ে যায় এবং পিরিয়ড অনিয়মিত হতে শুরু করে।

পিসিওএসের পেছনে বংশগত কারণ বা পারিবারিক ডায়াবেটিসের ইতিহাস একটি বড় ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, পিসিওএস আক্রান্ত প্রায় ৭০ শতাংশ নারীর শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা থাকে। এ ছাড়া আধুনিক জীবনযাত্রায় প্যাকেটজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত ফাস্টফুড, অপর্যাপ্ত ঘুম, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অত্যধিক মানসিক চাপ এ রোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। পিসিওএসের লক্ষণ অনেক সময় বয়ঃসন্ধির পর থেকে ধীরগতিতে প্রকাশ পায়। তাই অনেকেই প্রাথমিক লক্ষণকে গুরুত্ব দেন না। হুট করে ওজন বেড়ে যাওয়া এবং বিশেষ করে পেটের দিকে মেদ জমা, অনিয়মিত মাসিক, মুখে ও বুকে অবাঞ্ছিত লোম গজানো, ত্বকের তৈলাক্ততা ও প্রচুর ব্রণ ওঠা এর অন্যতম লক্ষণ। এ ছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে ঘাড়ের দিকে কালো ছোপ দাগ দেখা যায় এবং চুল পড়ে টাক পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

পিসিওএস আক্রান্ত অনেক নারীই এ সমস্যায় গুরুত্ব দেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দেয়। বন্ধ্যত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে পিসিওএস আজ বিশ্বব্যাপী আলোচিত। প্রতিকারের জন্য জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তন অপরিহার্য। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। খাদ্যাভ্যাস থেকে চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দিয়ে নিয়মিত সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং শারীরিক ব্যায়াম করা এ রোগের চিকিৎসার অবিচ্ছেদ্য অংশ। 
মনে রাখতে হবে, পিসিওএস কেবল মাসিক বা হরমোনের সমস্যা নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে 
পারে। তাই অল্প বয়সেই মাসিকের অনিয়ম বা ওজন বৃদ্ধির মতো লক্ষণ দেখা দিলে 
গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান এবং জীবনধারার সুশৃঙ্খল পরিবর্তনই এ সিনড্রোম থেকে মুক্তির উপায়।
লেখক: অধ্যাপক, গাইনি অ্যান্ড অবস, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

আরও পড়ুন

×