ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

কোন বয়সে বেশি ক্যালসিয়াম প্রয়োজন

কোন বয়সে বেশি ক্যালসিয়াম প্রয়োজন
×

কর্নেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

মানবদেহের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যক্রমের জন্য ক্যালসিয়াম একটি অত্যাবশ্যক খনিজ উপাদান। হাড় ও দাঁতের গঠন, পেশির সংকোচন, স্নায়ুর কার্যক্রম এবং হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে ক্যালসিয়ামের ভূমিকা অপরিসীম। বয়সভেদে শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা পরিবর্তিত হয় এবং নির্দিষ্ট কিছু সময়ে এর প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। কৈশোরকাল, বিশেষ করে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সে শরীরের বৃদ্ধি দ্রুত হয় এবং হাড়ের গঠন সম্পূর্ণতা লাভ করে। এ সময় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম না পেলে ভবিষ্যতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালেও মায়ের শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কারণ এই সময় ভ্রূণ ও শিশুর হাড় গঠনের জন্য অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম প্রয়োজন হয়।

নারীদের ক্ষেত্রে ৫১ থেকে ৭০ বছর বয়সে ক্যালসিয়ামের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোনের ঘাটতির কারণে হাড় ক্ষয়ের হার বেড়ে যায়। এ অবস্থায় খাদ্যের পাশাপাশি প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা দরকার। শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের দুধ ক্যালসিয়ামের সর্বোত্তম উৎস। গুঁড়া দুধের ক্যালসিয়াম তুলনামূলকভাবে কম শোষিত হয়। দুধে অ্যালার্জি থাকলে বিকল্প উৎস থেকে ক্যালসিয়াম নিশ্চিত করতে হয়। ধূমপান, অতিরিক্ত চা-কফি, কোমল পানীয় ও অ্যালকোহল ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা সৃষ্টি করে। ভিটামিন-ডি ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য অপরিহার্য। নিয়মিত রোদে না থাকলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ কিডনির মাধ্যমে ক্যালসিয়াম বের করে দেয়। তাই লবণ নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। বয়স অনুযায়ী সঠিক খাদ্যাভ্যাসই ক্যালসিয়াম ঘাটতি প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি।

ক্যালসিয়াম গ্রহণের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ অনেক সময় কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রাকৃতিকভাবে ক্যালসিয়াম পাওয়ার চেষ্টা করাই শ্রেয়। ছোট কাঁটাসহ মাছ, পনির, দই, বাদাম এবং সবুজ শাকসবজি (ব্রকলি ও পালং শাক) ক্যালসিয়ামের চমৎকার উৎস। যারা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট বা দুধ হজম করতে পারেন না, তারা ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে দই বা সয়া দুধ বেছে নিতে পারেন। মনে রাখবেন, ক্যালসিয়ামের শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন-ডির পাশাপাশি ম্যাগনেসিয়ামেরও ভূমিকা রয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ না হলে হাড়ের আকার বিকৃত হতে পারে। সুতরাং বয়স্কদের হাড় মজবুত রাখতে দুধের পাশাপাশি নিয়মিত সকালের রোদে হাঁটার অভ্যাস করা জরুরি।
লেখক : মেডিসিন স্পেশালিস্ট ও এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট

আরও পড়ুন

×