ভ্রমণে বমি এড়াতে যা করবেন
ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
ভ্রমণ মানেই আনন্দ। অনেকের কাছে আবার এই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয় ‘মোশন সিকনেস’ বা বমির সমস্যার কারণে। মূলত কান এবং চোখ যখন গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পারে না, তখনই মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে শরীরে বমি বমি ভাব তৈরি করে। তবে কিছু সচেতনতা অবলম্বন করলে এ সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।
নিচে ভ্রমণে বমি এড়ানোর কিছু কার্যকর ও তথ্যভিত্তিক উপায় দেওয়া হলো–
সঠিক আসন নির্বাচন
ভ্রমণের সময় আপনি কোথায় বসছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাসে বা কারে ভ্রমণের সময় সামনের আসনে বসার চেষ্টা করুন। জাহাজে মাঝখানের অংশ এবং বিমানে পাখার কাছাকাছি আসনগুলো সবচেয়ে স্থিতিশীল থাকে। এতে শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং অস্বস্তি কম হয়।
দৃষ্টির দিক ঠিক রাখা
চলন্ত অবস্থায় ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা বা বই পড়া থেকে বিরত থাকুন। এটি মস্তিষ্কে বিভ্রান্তি বাড়ায়। তার বদলে জানালা দিয়ে বাইরের স্থির দিগন্তের (Horizon) দিকে তাকিয়ে থাকুন। এটি আপনার চোখ ও কানের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
খাবারের বিষয়ে সতর্কতা
যাত্রা শুরুর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ভারী বা চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। খালি পেটে ভ্রমণ করাও ঠিক নয়, কারণ এটি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়াতে পারে। হালকা শুকনো খাবার যেমন বিস্কুট বা মুড়ি খেতে পারেন। যাত্রাপথে পর্যাপ্ত পানি পান করুন, তবে একবারে বেশি না খেয়ে চুমুক দিয়ে বারবার খান।
প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার
বমি ভাব দূর করতে আদা বা লেবু জাদুর মতো কাজ করে। মুখে এক টুকরো আদা রাখতে পারেন অথবা আদা চা পান করতে পারেন। লেবুর খোসার ঘ্রাণ বা লবঙ্গ মুখে রাখলেও দ্রুত স্বস্তি পাওয়া যায়। পুদিনা পাতার তেল বা চুইংগামও মোশন সিকনেস কমাতে সহায়ক।
বাতাস চলাচল ও বিশ্রাম
গাড়িতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। দম বন্ধ করা পরিবেশে বমি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। খুব বেশি খারাপ লাগলে চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। এতে মস্তিষ্ক বাইরের গতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শান্ত হতে পারে।
লেখক: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
- বিষয় :
- ভ্রমণ
