ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
×

 ডা. এ হাসনাত শাহীন

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

হরমোন হচ্ছে দেহের বিভিন্ন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রাসায়নিক, যা রক্তের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। মানবদেহে গুরুত্বপূর্ণ হরমোনগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইনসুলিন, থাইরয়েড হরমোন, কর্টিসোল, সেক্স হরমোন ইত্যাদি। 

হরমোনের কাজ
শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশ-বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ;
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ-বয়ঃসন্ধি;
প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ;
ঘুম ও মানসিক স্থিতি;
ওজন নিয়ন্ত্রণ;
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ;
অনেক প্রয়োজনীয় মিনারেলস ও লবণের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ।
শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড সমস্যা, বন্ধ্যত্ব, অস্টিওপোরেসিস, স্থূলতার মতো দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল রোগ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া 
প্রায় ৪০০-এর বেশি বিরল হরমোন রোগ রয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেগুলো শনাক্ত করা যায় না।

হরমোনজনিত বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক সমস্যা
ডায়াবেটিস;
থাইরয়েড সমস্যা;
স্থূলতা/ওজন হ্রাস;
খাওয়ার অরুচি, মেজাজ পরিবর্তন;
অতিরিক্ত ঠান্ডা/গরম লাগা;
অতিরিক্ত পানির পিপাসা;
বুক ধড়ফড় করা;
সময়ের আগে বয়ঃসন্ধি শুরু হওয়া বা বয়স হয়ে গেলেও বয়ঃসন্ধি শুরু না হওয়া;
বয়সের তুলনায় অতিরিক্ত খাটো বা লম্বা;
মেয়েদের অনিয়মিত মাসিক, পুরুষালি লক্ষণ, বায়ুচড়া, অপ্রয়োজনে দুগ্ধ নিঃসরণ;
পুরুষের যৌন সমস্যা, বন্ধ্যত্ব ও স্তন বড় হওয়া;
শরীরে লবণ বা ভিটামিনের সমস্যা;
হাড় ক্ষয়, কিডনিতে বারবার পাথর হওয়া;
শুষ্ক ত্বক, ত্বকে ফাটা দাগ, ঘাড়/বগলে কালো বা ধবল রোগ;
কোলেস্টেরল ও অন্যান্য বিপাকজনিত সমস্যা
অতিরিক্ত দুর্বলতা, বিষণ্নতা;
অনিয়ন্ত্রিত ব্লাড প্রেসার/লো ব্লাড প্রেসার।

করণীয় 
নিয়মিত কায়িক শ্রম ও ব্যায়াম করতে হবে। 
স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সামুদ্রিক মাছ, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ বিভিন্ন খাবার, যেমন– দুধ ও দুধজাত খাবার, ডিমসহ শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। 
রাতের বেলা পরিমিত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে কমপক্ষে সাত ঘণ্টা।
শরীরে পর্যাপ্ত রোদ লাগানো।
ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে দূরে থাকতে হবে। প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার কমানো, বিশেষ করে খাদ্য-পানীয় পরিবেশন ও বিপণনে প্লাস্টিকজাত পণ্যের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। 
খাদ্যদ্রব্য ও ফসল উৎপাদনে কীটনাশকসহ ক্ষতিকর কেমিক্যালের ব্যবহার কমাতে হবে। 
প্রসাধনসামগ্রীতে ক্ষতিকর কেমিক্যালের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। প্যারাবেন, ট্রাইক্লোসান ও থ্যালেটসযুক্ত সামগ্রী কেনায় বিরত থাকতে হবে।
উপরোল্লিখিত শারীরিক সমস্যায় অবশ্যই একজন হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হরমোনজনিত অনেক সমস্যা, যেমন– ডায়াবেটিস, স্থূলতা, যৌন সমস্যা, বন্ধ্যত্ব, শারীরিক ও মানসিক অবসাদ প্রভৃতির জন্য মানুষ বিভিন্ন ধরনের অপচিকিৎসার শিকার হন। মিথ্যা ও ভুল তথ্যসংবলিত অবৈজ্ঞানিক চটকদার বিজ্ঞাপন থেকে সতর্ক থাকুন।
লেখক : ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন বিশেষজ্ঞ, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ইমপালস হাসপাতাল, ঢাকা।

আরও পড়ুন

×