ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

অ্যাভাসকুলার নেক্রোসিস কারণ ও আধুনিক চিকিৎসা

অ্যাভাসকুলার নেক্রোসিস কারণ ও আধুনিক চিকিৎসা
×

 ডা. মো. সফিউল্যাহ প্রধান

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ০৭:৫৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

অ্যাভাসকুলার নেক্রোসিস (AVN) হলো এমন একটি জটিল হাড়জনিত রোগ, যেখানে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে ধীরে ধীরে হাড়ের টিস্যু নষ্ট হতে শুরু করে। এটি সাধারণত শরীরের বড় জয়েন্টগুলোর হাড়ে, বিশেষ করে হিপ জয়েন্টে বেশি দেখা যায়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি গুরুতর চলাচলজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে।
অ্যাভাসকুলার নেক্রোসিস কেন হয়?
এই রোগের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সাধারণত আঘাত বা হাড় ভাঙার ফলে রক্তনালির ক্ষতি হলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ওষুধ সেবন, অতিরিক্ত মদ্যপান, ডায়াবেটিস, সিকেল সেল অ্যানিমিয়া, লিউকেমিয়া, HIV/AIDS এবং অটোইমিউন রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যাও AVN-এর ঝুঁকি বাড়ায়। কিছু ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি বা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পরও এ রোগ দেখা দিতে পারে।

লক্ষণ ও উপসর্গ
অ্যাভাসকুলার নেক্রোসিসের শুরুতে উপসর্গ হালকা হলেও ধীরে ধীরে তা তীব্র হয়। রোগীর সাধারণত কুঁচকি বা ঊরুর গভীরে ব্যথা অনুভূত হয়, যা হাঁটাচলা, সিঁড়ি ওঠানামা বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বেড়ে যায়। অনেক সময় বিশ্রামের সময়ও ব্যথা থাকে। রোগ অগ্রসর হলে জয়েন্টের নড়াচড়া সীমিত হয়ে যায় এবং দৈনন্দিন কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

রোগ নির্ণয়
AVN নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকরা বিভিন্ন আধুনিক পরীক্ষার সাহায্য নেন। এর মধ্যে এক্স-রে, এমআরআই, সিটি স্ক্যান এবং বোন স্ক্যান উল্লেখযোগ্য। কিছু ক্ষেত্রে রোগের জটিলতা বোঝার জন্য বায়োপসিরও প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসা পদ্ধতি
চিকিৎসা রোগের ধাপ, রোগীর বয়স এবং হাড়ের ক্ষতির মাত্রার ওপর নির্ভর করে।

অ-সার্জিক্যাল চিকিৎসা
প্রাথমিক পর্যায়ে বিশ্রাম, ফিজিওথেরাপি, ব্যথানাশক ওষুধ এবং ঠান্ডা বা গরম সেঁক ব্যবহার করা হয়। রোগীকে অতিরিক্ত চাপ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সার্জিক্যাল চিকিৎসা
রোগ অগ্রসর হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কোর ডিকম্প্রেশন, বোন গ্রাফটিং, অস্টিওটমি এবং শেষ পর্যায়ে হিপ জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট।
সম্ভাব্য জটিলতা
চিকিৎসা না নিলে হাড় ধীরে ধীরে দুর্বল ও বিকৃত হয়ে যায়, যা পরবর্তী সময়ে স্থায়ী আর্থ্রাইটিস এবং চলাচলে অক্ষমতার কারণ হতে পারে। তাই প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক : বিশেষজ্ঞ চিকিসক

আরও পড়ুন

×