ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পেটে আলসার কেন হয় এবং কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

পেটে আলসার কেন হয় এবং কীভাবে প্রতিরোধ করবেন
×

কর্নেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ০৭:৫৩ | আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ | ০৭:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

পেপটিক আলসার মূলত পাকস্থলী ও ডিওডেনামে সৃষ্টি হওয়া এক ধরনের ক্ষত। সাধারণত অতিরিক্ত এসিড নিঃসরণের কারণে এ রোগ হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে এ সমস্যা দেখা দেয়। এই ব্যাকটেরিয়ার নাম হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি।

এই জীবাণু সাধারণত অস্বাস্থ্যকর ও ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মুখ থেকে মুখে অথবা দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এটি সংক্রমিত হতে পারে। পরিবারের একজন সদস্য আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদের মধ্যেও সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এই জীবাণুর পাশাপাশি কিছু ওষুধও আলসারের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে ডাইক্লোফেনাক, এসপিরিন, আইবুপ্রফেন বা কিটোরোলাক জাতীয় বেদনানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে পাকস্থলীর প্রাচীরে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবনের ফলেও পাকস্থলীতে এসিড নিঃসরণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত চা, কফি, ঝাল মসলা ও ভাজাপোড়া খাবারও আলসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

আলসারের প্রধান লক্ষণ হলো পেটের উপরিভাগে জ্বালাপোড়া ধরনের ব্যথা। অনেক সময় খাওয়ার পর ব্যথা বাড়ে, আবার কখনও খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ব্যথা শুরু হয়। বমি বমি ভাব, অরুচি এবং ওজন কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় রক্তবমি বা কালো পায়খানা হতে পারে।

এই রোগ প্রতিরোধে ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করা জরুরি। অতিরিক্ত ঝাল, তেলযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার কম খেতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।

লেখক: মেডিসিন স্পেশালিস্ট ও এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট, সিএমএইচ, ঢাকা।
 

আরও পড়ুন

×