ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নীরব ঘাতক ওরাল ক্যান্সার

নীরব ঘাতক ওরাল ক্যান্সার
×

 ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস নিশী

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ০৮:০৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

ওরাল ক্যান্সার বা মুখগহ্বরের ক্যান্সার বর্তমানে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ওরাল ক্যান্সার হলো ঠোঁট, জিহ্বা, মাড়ি, মুখের ভেতর, তালু বা গলার ভেতরের অংশে হওয়া এক ধরনের ক্যান্সার। দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফলেই দিন দিন বেড়ে চলেছে এই রোগ।

কারণ
যারা দীর্ঘদিন ধরে পান, সুপারি, জর্দা, গুল, তামাক, খৈনি সেবন করে থাকেন বা যারা অ্যালকোহল পান করেন এবং ধূমপান করেন, তাদের ক্ষেত্রে ওরাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া মুখে ভাঙা দাঁত, ধারালো দাঁত এবং অসামঞ্জস্য ডেনচার থাকার কারণেও ওরাল ক্যান্সার হতে পারে। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ও অতিরিক্ত সূর্যরশ্মির জন্যও এটি হতে পারে।

ওরাল ক্যান্সারের লক্ষণ
ঠোঁট বা মুখের ভেতরে হওয়া ব্যথাযুক্ত বা ব্যথাহীন ঘা, যা সহজে সারে না। মুখের ভেতরে সাদা বা লাল ছোপ। জিহ্বা বা গালের ভেতরের কোনো অংশে পিণ্ড বা ফোলা ভাব। চিবানো বা ঢোক গেলার সময় ব্যথা অনুভূত হওয়া এবং ওজন কমে যাওয়া। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শে সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে হবে। রোগ যত দ্রুত শনাক্ত হবে, সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।

চিকিৎসা
সার্জারি বা টিউমার অপসারণ, রেডিয়েশনথেরাপি, অর্থাৎ ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে বিকিরণ ব্যবহার এবং কেমোথেরাপি বা ওষুধের মাধ্যমে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়।

প্রতিকার
দৈনন্দিন জীবনে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলার মাধ্যমেই ওরাল ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সচেতনতাই প্রতিরোধ। তাই মুখে কোনো অস্বাভাবিকতা অনুভব করলে অবহেলা করবেন না। নিজে নিজে সেরে যাবে ভেবে বসে থাকবেন না। প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, কারণ, মুখে সামান্য ঘা থেকেই বিপদের যাত্রা শুরু হতে পারে। তামাকজাত দ্রব্য ত্যাগ করুন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন, সময়মতো এইচপিভি ভ্যাকসিন নিন এবং নিয়মিত দাঁত ও মুখগহ্বর চেকআপ করুন।
লেখক : ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন। 
চেম্বার: আলোক ডেন্টাল কেয়ার ইউনিট, আলোক হেলথকেয়ার লিমিটেড।
 

আরও পড়ুন

×