ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে সরকার, নিয়োগ হবে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী
ছবি- সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ২১:৩৯
সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘হোম-টু-হোম হেলথ স্ক্রিনিং’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন এবং বিভিন্ন রোগ দ্রুত শনাক্তের উদ্যোগ নেবেন। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের লেক পার্কে ‘হাইজিন ফর হেলথ বাংলাদেশ’–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের কোনো মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং মারাত্মক রোগগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে সরকার সারা দেশে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করবে।
তিনি জানান, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। তাঁদের মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী হবেন। এসব স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ নারীদের স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার কীভাবে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করতে হয়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন। এতে রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা একটি বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কিট নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাবেন। সেখানে রক্তচাপ, ওজন, ডায়াবেটিস ও লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সুস্থ থাকতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিকল্প নেই। একটি সুস্থ, উৎপাদনশীল ও জ্ঞানভিত্তিক জাতি গড়তে জনসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার বেড়ে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে অধিকাংশ শিশুর জন্ম সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে হচ্ছে। কিন্তু জন্মের পর অনেক ক্ষেত্রে শিশুকে মায়ের শালদুধ খাওয়ানো হচ্ছে না। মায়েদের কর্মব্যস্ততা, অবহেলা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর হার কমে যাচ্ছে। এর ফলে শিশুরা অপুষ্টির ঝুঁকিতে পড়ছে এবং বিভিন্ন সংক্রমণজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
অনুষ্ঠানে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬ সামানজার সাঈদ, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর আজরা মাহমুদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এবং গুলশান সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মৃধাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।