ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে কী হতে পারে

ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে কী হতে পারে
×

 ডা. নাফিসা আবেদীন

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৮:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

ইউরিক এসিড শরীরের একটি স্বাভাবিক বর্জ্য পদার্থ, যা পিউরিনজাতীয় উপাদান ভাঙার ফলে তৈরি হয়। সাধারণত কিডনির মাধ্যমে এটি শরীর থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু কোনো কারণে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে তাকে হাইপারইউরিসেমিয়া বলা হয়। দীর্ঘদিন এই সমস্যা অবহেলিত থাকলে তা হাড়, জয়েন্ট এবং কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাদের মধ্যে ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এ ছাড়া নিয়মিত মদ্যপান, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু ওষুধের কারণেও রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।

জয়েন্ট ও হাড়ের ব্যথা
ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে তা জয়েন্টে স্ফটিক আকারে জমা হতে পারে। এর ফলে তীব্র ব্যথা, ফোলা ও প্রদাহ দেখা দেয়। অনেক সময় পায়ের বুড়ো আঙুল, গোড়ালি, হাঁটু বা অন্যান্য জয়েন্টে হঠাৎ ব্যথা শুরু হয়। অনেকেই এই ব্যথাকে সাধারণ বাতের ব্যথা মনে করলেও এর পেছনে উচ্চমাত্রার ইউরিক এসিড দায়ী থাকতে পারে।

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া
ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে কিছু মানুষের প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি
অতিরিক্ত ইউরিক এসিড কিডনিতে জমে পাথর তৈরি করতে পারে। কিডনিতে পাথর হলে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে সমস্যা এবং অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই ইউরিক এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পিঠ, তলপেট ও কুচকিতে ব্যথা
কিডনির ওপর প্রভাব পড়লে পিঠের নিচের অংশ, তলপেট বা কুচকিতে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এসব উপসর্গ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

বারবার প্রস্রাবের বেগ
শরীরে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড থাকলে কিডনি তা বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে অনেকের বারবার প্রস্রাবের বেগ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তও যেতে পারে, যা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

মূত্রনালির সংক্রমণ
ইউরিক এসিডজনিত সমস্যার সঙ্গে কখনও কখনও মূত্রনালির সংক্রমণও যুক্ত হতে পারে। প্রস্রাবে জ্বালা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব বা জ্বর দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রতিরোধে করণীয়
ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, অতিরিক্ত লাল মাংস ও উচ্চ পিউরিনযুক্ত খাবার সীমিত খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।
রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গেলেই সব সময় উপসর্গ দেখা দেয় না। তবে জয়েন্টে ব্যথা, প্রস্রাবে অস্বস্তি বা কিডনি-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
লেখক : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

আরও পড়ুন

×