মাংসপেশিতে ব্যথা: কারণ ও করণীয়
অধ্যাপক ডা. আলতাফ সরকার
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
মাংসপেশির ব্যথা একটি সাধারণ কিন্তু যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। যেকোনো বয়সের মানুষ এ ধরনের ব্যথায় আক্রান্ত হতে পারেন। অনেক সময় ব্যথা সাময়িক হলেও কখনও কখনও তা দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত করার মতো তীব্র হয়ে ওঠে। বিশেষ করে হাত-পা, ঘাড়, কাঁধ বা পিঠের পেশিতে ব্যথা হলে স্বাভাবিক চলাফেরা ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।
সাধারণত অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, ভারী জিনিস বহন, দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকা, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা কিংবা কোনো ধরনের আঘাতের কারণে মাংসপেশিতে ব্যথা দেখা দেয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে স্পষ্ট কোনো কারণ ছাড়াও এ সমস্যা হতে পারে। মাংসপেশির ব্যথার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।
মানসিক চাপ
অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরের ওপর যেমন প্রভাব ফেলে, তেমনি পেশির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে শরীরে বিভিন্ন স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা পেশিকে টানটান ও ক্লান্ত করে তোলে। ফলে ঘাড়, কাঁধ, পিঠ বা অন্যান্য স্থানে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। যারা দীর্ঘ সময় মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, তাদের মধ্যে পেশি ব্যথার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
পানিশূন্যতা
শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে মাংসপেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এর ফলে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা কিংবা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। পানিশূন্যতার কারণে মাথাব্যথা, অবসাদ এবং মনোযোগের ঘাটতিও হতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা শরীর ও পেশির সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুষ্টির ঘাটতি
শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ভূমিকা অপরিসীম। বিশেষ করে ভিটামিন ডি পেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে পেশিতে ব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। সূর্যের আলো ভিটামিন ডি-এর প্রধান উৎস। এছাড়া তৈলাক্ত মাছ, দুধ, ডিমের কুসুম, মাশরুম ও কিছু দুগ্ধজাত খাদ্য থেকেও এই ভিটামিন পাওয়া যায়।
ঘুমের অভাব
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ক্ষয়পূরণ ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম সাধারণত প্রয়োজন। ঘুমের ঘাটতি থাকলে শরীরে ক্লান্তি বাড়ে, মানসিক চাপ বেড়ে যায় এবং পেশিতে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে তা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
যদি মাংসপেশির ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, তীব্র আকার ধারণ করে, কোনো কারণ ছাড়াই বারবার ফিরে আসে অথবা এর সঙ্গে জ্বর, দুর্বলতা বা পেশি ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মাংসপেশির ব্যথা প্রতিরোধে নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন জীবনযাপনই এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে সাহায্য করে।
লেখক: মাস্কুলোস্কেলিটাল ডিজঅর্ডারস বিশেষজ্ঞ
- বিষয় :
- ব্যথা
