ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

রাত জাগার অভ্যাসে কমতে পারে স্মরণশক্তি

রাত জাগার অভ্যাসে কমতে পারে স্মরণশক্তি
×

 ডা. নাফিসা আবেদীন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান সময়ে অনেকেই কাজের চাপ, অভ্যাস কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে রাত জেগে থাকেন। কিন্তু এই অভ্যাস যে ধীরে ধীরে শরীর ও মস্তিষ্কের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রাত জাগা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব স্মৃতিশক্তি হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। এমনকি দীর্ঘ মেয়াদে এটি ডিমেনশিয়া বা পারকিনসন্স রোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা দীর্ঘদিন ধরে রাত জেগে কাজ করেন, বিশেষ করে রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা বা ৬টা পর্যন্ত কাজের অভ্যাস রয়েছে, তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যায়। চিন্তা করা, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তথ্য মনে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে আচরণগত পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যায়। এক গবেষণায় প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, অনিয়মিত ঘুমের কারণে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মানবদেহের প্রতিটি কোষ একটি নির্দিষ্ট জৈব ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম অনুযায়ী কাজ করে। এই জৈব ঘড়ি আমাদের ঘুম, হজম, শরীরের তাপমাত্রা এবং হরমোনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু যখন কেউ নিয়মিত রাত জেগে থাকে, তখন এই স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে যায়। ফলে শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে।
দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস চলতে থাকলে তা শুধু স্মৃতিশক্তির ওপরই নয়; বরং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ব্যক্তি সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, মনোযোগ কমে যায় এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। মধ্যবয়সেই স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা পরে গুরুতর স্নায়বিক রোগের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
তাই সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং ভোরে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। রাত জাগার প্রবণতা কমিয়ে এনে শরীরের প্রাকৃতিক ছন্দ বজায় রাখা গেলে স্মৃতিশক্তি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব।
লেখক: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

আরও পড়ুন

×