ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

আরও ছয় শিশুর মৃত্যু

হাম সংক্রমণ কমলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

জুনে সংক্রমণ কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ

হাম সংক্রমণ কমলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৮:৪২ | আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৯:৫৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

হাম সংক্রমণ কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের গতি কিছুটা কমলেও শঙ্কা কাটেনি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৯ হাজার ৮৬০ শিশু। এর মধ্যে ৭০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজন ময়মনসিংহে এবং একজন করে ঢাকা ও খুলনার। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৭৮৯ শিশু। এদের মধ্যে ৪৫ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৯৮ হাজার ২৬৬ শিশুর এবং পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৫৯৪ জনের। 
জুনের প্রথম ৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছিল ১০ হাজার ১৪৮ জন। শেষের ৯ দিনে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৩৬২ তে। অর্থাৎ, আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। তবে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর প্রবণতা এখনও উদ্বেগজনক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদ বলেন, মাঠ পর্যায়ের হাসপাতাল থেকে পাঠানো কেস রিপোর্ট ফর্মের ভিত্তিতে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে হামের প্রকোপ কমছে; পরিস্থিতি উন্নতির দিকে।

তথ্য ও টিকাদান নিয়ে প্রশ্ন 
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণ কমার প্রবণতা ইতিবাচক হলেও টিকাদানের ঘাটতি পূরণ, নির্ভুল নজরদারি এবং দ্রুত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা জোরদার না করলে হামের প্রকোপ আবারও বাড়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, মৃত্যুহার কমার পেছনে টিকাদানের ইতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। তবে ৯৫ শতাংশ কার্যকর টিকাদান কভারেজ বাস্তবে অর্জিত হয়েছে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তাঁর মতে, দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকায় টিকাদানের ঘাটতি এবং রোগ নজরদারির দুর্বলতার কারণে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিরূপণ কঠিন হয়ে পড়ছে।

সরকার শতভাগের বেশি টিকা কভারেজের দাবি করলেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লক্ষ্যভুক্ত সব শিশু টিকার আওতায় আসেনি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, টিকাবঞ্চিত শিশুকে দ্রুত শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনতে হবে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদের মতে, হামের সংক্রমণ দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া। পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল, মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ এবং শক্তিশালী রোগ নজরদারি ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

আরও পড়ুন

×