তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার
চিকিৎসাযন্ত্র না বসিয়েই বিল তোলার চেষ্টা
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ
তবিবুর রহমান
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৪ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:২৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপন না করেই বিল তুলতে সরকারি নথিতে জাল সই ও সিল ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারে (এনআইএলএমআরসি) এ কাণ্ড ঘটিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজ। এ বিষয়ে এনআইএলএমআরসি কর্তৃপক্ষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) লিখিত অভিযোগে জানিয়েছে। এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করছে সিএমএসডি।
কেন্দ্রীয় ঔষধাগার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে তিন কোটি ১৪ লাখ টাকা মূল্যের যন্ত্র সরবরাহ করে মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজ। সেই সময়েই যন্ত্রপাতি কেনার মোট বিলের ৭০ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছিল। বাকি ৩০ শতাংশ টাকা তোলার জন্য সমন্বয় বিলের নথিতে এমন জালিয়াতি করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির মধ্যে অটো স্টেইনার, ইমিউনোহিস্টোপ্যাথলজি ও ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি পরীক্ষাবিষয়ক তিনটি যন্ত্র এখনও স্থাপন করেনি। অথচ যন্ত্রগুলো গ্রহণ ও স্থাপনবিষয়ক নথি ব্যবহার করে বিল তোলার আবেদন করা হয়। এ তিন যন্ত্রের বাজার দর দুই কোটি ৯ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা। এনআইএলএমআরসির তৃতীয় তলার প্যাথলজি বিভাগের সামনে যন্ত্র তিনটি গতকাল শনিবারও বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এনআইএলএমআরসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. হুমায়রা বিনতে আসাদের স্বাক্ষরিত অভিযোগের চিঠিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজের দাখিল করা যন্ত্রের তালিকা ও প্রশিক্ষণবিষয়ক নথিতে সই ও সিল জালিয়াতি এবং তথ্য বিকৃতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনআইএলএমআরসির সহযোগী অধ্যাপক ও প্যাথলজি বিভাগের প্রধান ডা. সৈয়দা সিনথিয়া করিম এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালককে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডা. সৈয়দা সিনথিয়া করিম সমকালকে বলেন, যন্ত্রের তালিকা যাচাই করতে গিয়ে আগের তালিকার সঙ্গে যন্ত্রপাতির হিসাবের অসংগতি ধরা পড়ে। তাঁর দাবি, তালিকায় তিনটি যন্ত্র কম পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট নথির পৃষ্ঠাগুলোর সঙ্গেও আগের নথির মিল ছিল না। পরবর্তী সময়ে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সইয়েও অসংগতি ধরা পড়ে।
সিএমএসডির ফার্মাসিস্ট মো. হাবিবুল কিবরিয়া সমকালকে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হলেও তিনটি যন্ত্র এখনও স্থাপন করা হয়নি। যথাযথভাবে গ্রহণ ও স্থাপন না হওয়ার পরও সেগুলো গ্রহণের নথি তৈরি করে বিল তোলার আবেদন করা হয়েছে।
প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও নথি দেখানোর পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজের কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত মুন্সী সাজ্জাদ হোসেন দাবি করেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে যন্ত্রগুলো সরবরাহের সময় স্থাপন করা হয়েছিল।
বর্তমানে সেগুলোর কী অবস্থা, তা তিনি জানেন না। সই জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।
সিএমএসডির পরিচালক মোহাম্মদ শফিউর রহমান বলেন, তদন্ত চলছে। মূল যন্ত্রের তালিকা, সই ও সিলযুক্ত নথি, রিসিভিং কপি, ইনস্টলেশন রিপোর্ট, প্রশিক্ষণবিষয়ক কাগজপত্র এবং বিল পরিশোধের হিসাব যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- চিকিৎসাযন্ত্র