গর্ভাবস্থায় জ্বরে ঝুঁকি ও করণীয়
ডা. ফারজানা শারমিন শুভ্রা
প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫ | ০৯:০৫
গর্ভাবস্থায় জ্বর হলে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। কারণ গর্ভাবস্থায় উচ্চমাত্রার জ্বর মা ও সন্তান দুজনকেই ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। জ্বরের ফলে মায়ের শরীর দ্রুত খারাপ হয় এবং এর প্রভাব সরাসরি অনাগত সন্তানের ওপর পড়তে পারে।
জ্বরের সম্ভাব্য কারণ
অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা মূত্রাশয়ে প্রদাহ, মৌসুমি ফ্লু বা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন।
উচ্চমাত্রার জ্বর ও ডেঙ্গুর লক্ষণ
সাধারণত ১০০ থেকে ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রাকে সাধারণ জ্বর বলা হয়। জ্বর যদি ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট হয়, তবে সেটি উচ্চমাত্রার জ্বর।
যদি জ্বরের সঙ্গে পাতলা পায়খানা, মাথা ঘোরা, গা-হাত-পায়ে ব্যথা হয়, তবে সাবধান হতে হবে। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে কারও নাক বা দাঁত দিয়ে রক্ত পড়া কিংবা শরীরে র্যাশ ওঠার মতো সমস্যাও দেখা যেতে পারে।
চিকিৎসা ও বিপজ্জনক সময়
গর্ভাবস্থায় জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না। এ ধরনের ওষুধ মারাত্মক হতে পারে। রোগীকে পরীক্ষা করে চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন।
ডেঙ্গু পরীক্ষার এনএস-১ নেগেটিভ এলেও অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের অবশ্যই লক্ষণগুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার চার থেকে সাত দিন সময় সবচেয়ে বিপজ্জনক। এ সময়ই প্লাটিলেট কমতে থাকে এবং রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ দেখা দেয়। প্লাটিলেট কমে গেলে অন্তঃসত্ত্বা মায়ের ইন্টারনাল হেমারেজ হতে পারে, অনাগত সন্তান পেটে মারা যেতে পারে বা প্রি-ম্যাচিউর ডেলিভারি হতে পারে। এ সময় প্রসব হলে বাচ্চারও ডেঙ্গু হতে পারে।
করণীয় ও সতর্কতা
জ্বর হলে ঘরে বসে থাকা যাবে না। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। রোগীকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার (যেমন– স্যুপ, ডাবের পানি, ফলের রস, স্যালাইন) খেতে হবে। পাশাপাশি প্রোটিনজাতীয় খাবার, সবুজ শাকসবজি, মাছ, মুরগি খেতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক থাকলে রোগী খুব বেশি কাবু হবে না।
ডেঙ্গু জ্বর থেকে সাবধান থাকতে অন্তঃসত্ত্বাদের দিনের বেলায়ও মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। ফুল-স্লিপ জামা পরতে হবে এবং মশার রিপেলেন্ট ব্যবহার করতে হবে।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, গাইনি ও অবস, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
- বিষয় :
- গর্ভাবস্থা
