ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

থাইরয়েডজনিত সমস্যা

থাইরয়েডজনিত সমস্যা
×

 ডা. এ হাসনাত শাহীন

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ | ১০:২০

থাইরয়েড হরমোন মানুষের বৃদ্ধি, বিকাশ, শারীরবৃত্তিক আর বিপাকীয় নানা ক্রিয়া-প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ কম বা বেশি হলে শরীরে দেখা দেয় নানা বিপত্তি। এগুলো হরমোনের কার্যগত সমস্যা। থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি হলে ‘হাইপোথাইরয়েডিজম’ হয়।

থাইরয়েডজনিত সমস্যার মধ্যে হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীর সংখ্যাই বেশি। এটি থাইরয়েডের সবচেয়ে পরিচিত সমস্যা। সাধারণত মহিলারা এ রোগে আক্রান্ত হন বেশি। প্রত্যেক আট মহিলার মধ্যে একজন হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যায় ভুগে থাকেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অটোইমিউনের কারণে এটি দেখা দেয়। এ ছাড়া থাইরয়েডের অস্ত্রোপচার, থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদাহ, আয়োডিনের ঘাটতি, রেডিয়েশন ও কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হাইপোথাইরয়েডিজম হতে পারে।

থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিজনিত প্রতিক্রিয়াটা ধীরে ধীরে পরিলক্ষিত হয় বলে বেশির ভাগ রোগী সমস্যা বুঝতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে রুটিন পরীক্ষার সময় থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। হাইপোথাইরয়েডিজম আক্রান্ত ব্যক্তির অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ, ওজন বেড়ে যাওয়া, শীত শীত ভাব, অবসাদ, চুল ও ত্বকের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, মহিলাদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিক বা অতিরিক্ত মাসিক, গর্ভধারণে অক্ষমতা, অকাল গর্ভপাত প্রভৃতি সমস্যা দেখা দিতে পারে। নবজাতকদের সাধারণত কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা দেয়। নবজাতকদের ক্ষেত্রে দৈহিক ও মস্তিষ্কের গঠন ও বিকাশ ব্যাহত হয়, এমনকি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হতে পারে।

থাইরয়েড গ্রন্থির অতিরিক্ত সক্রিয়তার কারণে থাইরয়েড হরমোন বেশি নিঃসৃত হলে তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলে। এর ফলে বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম, বারবার ক্ষুধা লাগা, ওজন কমে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত গরম লাগা, মহিলাদের মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা কম হওয়া, বন্ধ্যত্ব প্রভৃতি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া থাইরয়েড গ্রন্থির গঠনগত কিছু রোগ রয়েছে। যেমন— গয়টার বা গলগণ্ড, থাইরয়েড নডিউল এবং থাইরয়েড ক্যান্সার। 

২৫ মে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস। থাইরয়েডজনিত সমস্যা ও এর প্রভাবের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘থাইরয়েড রোগ, অসংক্রামক রোগ’। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭০ কোটিরও বেশি মানুষ থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত। বাংলাদেশের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারণা করা হয় প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড জটিলতায় ভুগছেন। সাধারণত পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে থাইরয়েডজনিত সমস্যার হার বেশি দেখা দেয়। মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাবে থাইরয়েডের রোগী চিকিৎসকের কাছে কম আসে। বয়স ও লিঙ্গভেদে ভিন্ন ভিন্ন উপসর্গ ও জটিলতা দেখা যায়। অনেক সময় উল্লেখযোগ্য কোনো উপসর্গ না থাকায় আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতে পারেন না। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে এটি শনাক্তের বাইরে থেকে যায়। এর দরুন পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই থাইরয়েডের বিপত্তিজনিত কারণে যেসব লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যায় তা সম্পর্কে অবগত হতে পারলে এই রোগের ব্যাপারে সচেতন হওয়া সম্ভব। সন্দেহজনক যে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে বা থাইরয়েডের বিপত্তি শনাক্ত হলে অবশ্যই একজন হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

লেখক: ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ, কনসালট্যান্ট

আরও পড়ুন

×