ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিশুর সবসময় ক্লান্ত থাকার ৭ কারণ

শিশুর সবসময় ক্লান্ত থাকার ৭ কারণ
×

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১১:২৯ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:১৬

শিশুদের মাঝে মাঝে ক্লান্ত হয়ে পড়া স্বাভাবিক। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রাণবন্ত থাকা, খেলাধুলায় আগ্রহ কমে যাওয়া, পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে সমস্যা হওয়া বা ঘুম থেকে ওঠার পরও ক্লান্ত লাগার মতো বিষয়গুলো উপেক্ষা করা উচিত নয়। এর পেছনে ঘুমের সমস্যা থেকে শুরু করে খাবারের অভ্যাস কিংবা শারীরিক ও মানসিক নানা কারণ থাকতে পারে।

ঘুমের সমস্যা

শিশু পর্যাপ্ত সময় ঘুমালেও যদি সকালে উঠে ক্লান্ত থাকে, তাহলে ঘুমের মানের দিকে নজর দেওয়া দরকার। রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, অস্থিরভাবে ঘুমানো, নাক ডাকা বা মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার কারণে ঘুম ঠিকমতো না হলে শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না।

শরীরে আয়রনের ঘাটতি

শিশুর ক্লান্তির অন্যতম কারণ হতে পারে আয়রনের ঘাটতি। রক্তে অক্সিজেন পরিবহনে আয়রনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে শিশুর ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ কিংবা মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। দ্রুত বেড়ে ওঠার সময়, খাবারে বৈচিত্র্যের অভাব বা আয়রনযুক্ত খাবার কম খাওয়ার কারণে এই ঘাটতি হতে পারে।

নাক ডাকা ও ঘুমের মধ্যে শ্বাসের সমস্যা

শিশু নিয়মিত জোরে নাক ডাকলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। ঘুমের মধ্যে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা কিছু সময়ের জন্য শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে। এতে দিনে শিশুকে অতিরিক্ত ক্লান্ত দেখাতে পারে। কখনও কখনও এর প্রভাব অতিরিক্ত চঞ্চলতা বা মনোযোগের অভাব হিসেবেও প্রকাশ পায়।

ঘুমের আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার

মোবাইল, ট্যাবলেট বা টিভি ব্যবহারের অভ্যাসও শিশুর ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ঘুমানোর ঠিক আগে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন দেখলে ঘুমাতে দেরি হতে পারে এবং ঘুমের সময় কমে যেতে পারে। দিনের পর দিন এমন অভ্যাস চললে শিশুর মধ্যে ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

থাইরয়েডের সমস্যা

থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি হলেও শিশু ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। এর সঙ্গে শারীরিক বৃদ্ধি ধীর হয়ে যাওয়া, অকারণে ওজন বেড়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ত্বক শুষ্ক হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা

শিশুর ক্লান্তির কারণ সবসময় শারীরিক নয়। পড়াশোনার চাপ, স্কুলের সমস্যা, পারিবারিক বিষয় বা অন্য কোনো দুশ্চিন্তা থেকেও শিশু মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। মেজাজের পরিবর্তন, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া কিংবা আগে পছন্দের কাজেও আগ্রহ হারিয়ে ফেললে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

অনিয়মিত খাবার ও পানি কম খাওয়া

সকালের নাশতা বাদ দেওয়া, অতিরিক্ত মিষ্টি বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি না পান করার কারণেও শিশুর শক্তি কমে যেতে পারে। বেড়ে ওঠার সময়ে শিশুর খাবারে প্রোটিন, শর্করা, ফল, সবজি ও পর্যাপ্ত পানি থাকা প্রয়োজন। নিয়মিত ও সুষম খাবারের অভ্যাস শিশুর দৈনন্দিন শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

শিশুর ক্লান্তি যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, অথবা এর সঙ্গে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, ওজনের পরিবর্তন, মেজাজের বড় ধরনের পরিবর্তন কিংবা পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজে আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক সাধারণ কিছু পরীক্ষা করে ক্লান্তির কারণ শনাক্ত করতে পারেন।

সূত্র: এনডিটিভি
 

আরও পড়ুন

×