ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

করোনায় 'কোয়ারেন্টাইনে' ভারত

করোনায় 'কোয়ারেন্টাইনে' ভারত
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২০ | ২২:৫৬ | আপডেট: ১১ মার্চ ২০২০ | ২৩:১১

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে সব দেশের জন্য ভ্রমণ ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তে কার্যত কোয়ারেন্টাইনে (পৃথক করে রাখা) রয়েছে ভারত।

শুক্রবার থেকে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের ভ্রমণ ভিসা বাতিল করে দেশটি। তবে  কূটনৈতিক, অফিসিয়াল, জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং পেশাগত ও প্রকল্পের কাজে নিয়োজিতদের ভিসা এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসকে মহামারি ঘোষণার পর সরকারের নেওয়া ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তে এক ধরনের কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছে ভারত।

গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম করোনার অস্তিত্ব ধরা পড়ে; এরপর তা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। বুধবার পর্যন্ত ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০-এ।

এমন পরিস্থিতিতে করোনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনের নেতৃত্বে এক বৈঠকে বসেন ভারতের মন্ত্রীরা। করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কী ধরনে পদক্ষেপ প্রয়োজন তা নিয়েও আলোচনা হয় সেখানে।

আগামী শুক্রবার ভারতীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ভ্রমণ ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এর ফলে অন্য কোনো দেশ থেকে ভ্রমণ ভিসা থাকা কোনো ব্যক্তি ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন না।

এদিকে চীন, ইতালি, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, স্পেন এবং জার্মানি থেকে ভারতীয়সহ যেকোনও দেশের নাগরিক যারা ১৫ ফেব্রুয়ারির পর ভারতে ফিরেছেন তাদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনের রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, করোনাভাইরাসকে এরই মধ্যে বুধবার বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এই ভাইরাসে চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। ইতালি থেকে পুরো ইউরোপ এবং আফ্রিকা ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইরানে এ ভাইরাস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতসহ শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে আগেই পৌঁছেছে করোনাভাইরাস। বাংলাদেশে সংক্রমণের ধরা পড়ে গত রোববার।

মার্চের মাঝামাঝি উহানে নতুন রোগীর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আশা করছেন চীনা চিকিৎসকরা। ফলে শিগগির ওই অঞ্চলের অবরুদ্ধ অবস্থার অবসান ঘটবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

এক মাসের বেশি সময় ধরে কার্যত অবরুদ্ধ ছিল হুবেইর সাড়ে ৫ কোটি মানুষ। কিন্তু চীনের বাইরে প্রতিদিনই নতুন নতুন দেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণের তথ্য আসছে। দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতে বাড়ছে নতুন রোগীর সংখ্যা।

সার্স ও মার্স পরিবারের সদস্য করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ফ্লুর মতো উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে তাকে বলা হচ্ছে কভিড-১৯। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এখন পর্যন্ত এ রোগে মৃত্যুহার ৩.৪ শতাংশ, যেখানে মৌসুমি ফ্লুতে মৃত্যুহার থাকে ১ শতাংশের নিচে। তবে করোনায় ৯ বছরের নিচের কেউ মারা যায়নি। প্রবীণদের মধ্যেই মৃত্যুহার বেশি।

করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মতো। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।

করোনাভাইরাসের কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনও তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। আপাতত একমাত্র উপায় হলো আক্রান্তদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, চীনে যে গতিতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, চীনের বাইরে এই সংক্রমণ ১৭ গুণ বেশি। পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রস অ্যাডানম গেব্রেয়েসুস বলেছেন, এ ভাইরাসকে যে কোনো উপায়ে ঠেকাতে হবে। এটা আত্মসমর্পণের সময় নয়। কোনো অজুহাতের সময় নয়। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই কঠিন পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।

আরও পড়ুন

×