ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকার নির্দেশ

ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকার নির্দেশ
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২০ | ০০:২০ | আপডেট: ২১ মার্চ ২০২০ | ০০:২০

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ৪ কোটি বাসিন্দাকে এ নির্দেশ দেন। গতকাল শুক্রবার থেকে নির্দেশনাটি কার্যকর হয়েছে। তবে কতদিন নির্দেশনা জারি থাকবে তা স্পষ্ট নয়। সংক্রমণ রোধে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ এটি।

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো বাসিন্দা বাড়ি থেকে বের হতে পারবেন না। এর আগে গভর্নর নিউসম আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, আগামী দুই মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার চার কোটি মানুষের অর্ধেক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। সেই শঙ্কা থেকেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন এ ডেমোক্র্যাট গভর্নর। শুধু ক্যালিফোর্নিয়াতে সহস্রাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন ও মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২০ জনের। ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্কেও প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক হারে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার।

ক্যালিফোর্নিয়ার রাজধানী সাক্রামেন্টোর জরুরি কার্যক্রম পরিচালনা কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্যের বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ দেন গভর্নর নিউসম। এই কেন্দ্রে সাধারণত দাবানল ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের তদারকি করা হয়। নিউসম বলেন, 'এই কঠিন মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বাস্তবতাকে আমলে নিতে হবে আমাদের।' গভর্নরের নির্দেশ অনুযায়ী খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ ও ব্যায়ামের জন্য মানুষ বাইরে বের হতে পারবে। ব্যাংক ও পেট্রোল পাম্প খোলা থাকবে। অগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে।

গত সপ্তাহে নেভাদা রাজ্যে অপ্রয়োজনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ৩০ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। টেক্সাস রাজ্যে 'স্বাস্থ্য বিপর্যয়' ঘোষণা করেছেন গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোট। রাজ্যটিতে ১৯০১ সালের পর এমন ঘটনা প্রথম। এ ছাড়া রাজ্যটিতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এক জায়গায় ১০ জনের বেশি মানুষকে জড়ো হতে নিষেধ করা হয়েছে। ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলীয় পর্যটন এলাকাগুলোতে হোটেল-মোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে হিলটন ইন্টারন্যাশনাল হোটেলকে হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ওই শহরের আরও কিছু হোটেলকে হাসপাতালে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। শহরটিতে প্রায় চার হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সামলাতে গিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার জন্য এখনও দায়ী করে যাচ্ছেন চীনকে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছেন, 'চীনের জন্য পুরো পৃথিবীকে এখন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।' সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ও বিবিসি।

আরও পড়ুন

×