ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

শান্তি চুক্তির আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

শান্তি চুক্তির আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
×

ফাইল ছবি

আল জাজিরা

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ১২:৫০ | আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ | ১২:৫৪

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে হওয়া আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। এ খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ শতাংশেরও বেশি কমে ব্যারেল প্রতি ৭১ ডলারের নিচে নেমে গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক এই মানদণ্ডটি (বেঞ্চমার্ক) যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো যুদ্ধ-পূর্ববর্তী দামে ফিরে এসেছে। 

আগস্ট মাসে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ফিউচারসের দাম কমে ব্যারেল প্রতি ৭০.৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন। গত ৩০ এপ্রিলে যুদ্ধ-পরবর্তী সর্বোচ্চ দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলারের বেশি। সেই তুলনায় বর্তমানে ব্রেন্টের দাম ৩৮ শতাংশেরও বেশি কমেছে। 

ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী কাতার যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে তাদের সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) সাথে সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে পরোক্ষ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের কর্মকর্তারা ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ অর্জন করেছেন বলে জানানোর পর এই দরপতন ঘটে।

বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আলোচনার ওপর একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে।’  

সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক তেলের বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভান্ডা ইনসাইটস-এর প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেলের প্রবাহের অবিচ্ছিন্ন ঊর্ধ্বগতি এবং ‘সতর্ক আশাবাদী ভূ-রাজনৈতিক মনোভাব’ দাম কমিয়ে দিয়েছে। 

হরি আল জাজিরাকে বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকের কয়েকটি মূল বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে, তবে দুই পক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন হরমুজ ট্রানজিট ব্যবস্থার বিষয়ে অন্তত আপাতত সংঘাত থেকে পিছিয়ে এসেছে বলে মনে হচ্ছে।’  

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করছি যে আটকে থাকা ব্যারেলের জট পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড) দাম কমা অব্যাহত থাকবে, এবং দাম এমনকি ওভারসোল্ড (অতিরিক্ত বিক্রিত) অঞ্চলের দিকেও চলে যেতে পারে।’ 

শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বব্যাপী তেল ও এলএনজি বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে হয়। মেরিনট্রাফিক-এর তথ্য অনুসারে, সম্প্রতি এখানে জাহাজ চলাচল কিছুটা বেড়েছে। মঙ্গলবার অন্তত ৪০টি জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করেছে (সোমবার ২৭টি ও রোববার ২২টি)। তবে নিরাপত্তাহীনতার কারণে এটি এখনও যুদ্ধ-পূর্ববর্তী দৈনিক প্রায় ১৩০টি পারাপারের চেয়ে অনেক নিচে। যুদ্ধ শুরুর পর এখানে অন্তত ৪৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

যদিও ইরান ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করার জন্য তাদের ‘সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা’ চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল, তবে তেহরান এরপর থেকে প্রণালীর মধ্য দিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণের একক অধিকার বারবার দাবি করেছে।

এদিকে দ্রুত দাম পড়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকার কথা বলেছেন সিঙ্গাপুরের স্পার্টা কমোডিটিজের তেল বাজার বিশ্লেষক নিল ক্রসবি। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই একটি স্থিতিশীল বা টেকসই পরিস্থিতি নয়। রাজনীতির দিক থেকে নয়, যা আমরা সবাই দেখতে পাচ্ছি। এমনকি সরবরাহ, চাহিদা এবং বাণিজ্যের দিক থেকেও স্বয়ং তেলের বাজারের অবস্থার জন্যও নয়।’ 

তিনি বলেন, ‘অনেক বড় পরিবর্তনশীল বিষয় এখানে কাজ করছে; দাম কমে যাওয়ার ফলে সম্ভবত বৈশ্বিক ক্রুড (অশোধিত তেল) আমদানিকারকরা বাজারে ফিরে আসবেন এবং সময়ের সাথে সাথে এই উদ্বৃত্ত বা জট পরিষ্কার করবেন।’ 

তিনি আরও বলেন, সুতরাং দামের দিক থেকে, আমরা এখনও ‘বিপদমুক্ত’  কি না, তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

সূত্র: আল জাজিরা

আরও পড়ুন

×