ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিজ্ঞান

এলিয়েনের অস্তিত্ব মিলবে ‘অচিরেই’

এলিয়েনের অস্তিত্ব  মিলবে ‘অচিরেই’
×

এলিয়েনদের আকৃষ্ট করতে পৃথিবী থেকে মহাকাশে লেজার রশ্মি ছোড়ার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। ছবি: এমআইটি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ২০:২৩

মহাসাগরের শত শত ফুট গভীরে রয়েছে প্রাণের অস্তিত্ব। মরুর শুষ্ক প্রান্তর বা পর্বতের চূড়া– পৃথিবী সর্বত্রই প্রাণময়। কিন্তু এ সবুজ গ্রহের বাইরে কি কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব আছে? যাদের আমরা এলিয়েন বলি, এ রকম কোনো বুদ্ধিমান প্রাণী আছে? জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এখন আর এসব প্রশ্ন করেন না। তাদের প্রশ্ন, কখন তারা এ প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধান পাবেন? মূলত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। অনেকে মনে করেন, জীবদ্দশাতেই তারা ভিনগ্রহে প্রাণের বিষয়ে জেনে যেতে পারবেন। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই তা নিশ্চিত হয়ে যাবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে বহুদূর এগিয়ে গেছেন। নানা গবেষণার ভিত্তিতে তাদের বিশ্বাস পোক্ত হয়েছে যে, মহাবিশ্বে প্রাণ আছে; দেখতে মানুষের মতো না হোক– তবু বুদ্ধিমান প্রাণী আছে। আর এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে তাদের মরিয়া চেষ্টারও কমতি নেই।

এরই অংশ হিসেবে সৌরজগৎ ও এর বাইরে চালানো হচ্ছে নানা অভিযান। মহাকাশে পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে, যাতে এলিয়েনদের ইঙ্গিত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। সম্প্রতি বৃহস্পতি গ্রহে অভিযান পরিচালনায় অংশ নেওয়া এক বিজ্ঞানী বলেন, গ্রহটির বরফাচ্ছাদিত চাঁদগুলোতে প্রাণের অস্তিত্ব না পাওয়াটাই হবে ‘আশ্চর্যের’।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার পেছনে যুক্তিসংগত অনেক কারণও আছে। সম্প্রতি নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (জেডব্লিউএসটি) সৌরজগতের বাইরে দূরতম গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের ইঙ্গিত শনাক্ত করে। পৃথিবীর মতো আরও শত শত পৃথিবীর চিত্র ধরা পড়েছে এ টেলিস্কোপে। এসব কারণে বিজ্ঞানীরা উঠেপড়ে লেগেছেন। এরই মধ্যে তারা বেশ কয়েকটি অভিযান শুরুর পরিকল্পনা করেছেন। কয়েকটি অভিযান শুরু প্রক্রিয়াধীন।

স্কটল্যান্ডের জ্যোতির্বিজ্ঞানী অধ্যাপক ক্যাথেরিন হেইমাস বলেন, ‘আমরা একটা অসীম মহাবিশ্বে বাস করি। এখানে নক্ষত্র ও গ্রহের সংখ্যাও অসীম। এটা আমাদের অনেকের কাছেই পরিষ্কার যে, আমরাই কেবল মহাবিশ্বের একমাত্র বুদ্ধিমান প্রাণী নই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে একা কিনা– সে প্রশ্নের উত্তর জানতে এখন আমাদের প্রযুক্তি ও সক্ষমতা আছে।’

মহাবিশ্বের বাইরে কোনো গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকলে তা টেলিস্কোপ চিহ্নিত করতে সক্ষম। তা ছাড়া ওই গ্রহে কী কী পদার্থ আছে, বর্তমানে সেগুলোও শনাক্ত করা যায়। চলতি মাসের শুরুর দিকে ইতিহাসের প্রথম এ ধরনের একটি ইঙ্গিত এসেছে। পৃথিবী থেকে ১২০ আলোকবর্ষ দূরের গ্রহ কে২-১৮বি থেকে আসা ওই ঝলক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই গ্রহটির অবস্থানও ‘গোল্ডিলকস’ এলাকায়। যে নক্ষত্রকে ঘিরে গ্রহটি ঘুরছে, সেটি যদি সুষম দূরত্বে থাকে, তাহলে ওই এলাকাকে ‘গোল্ডিলকস’ বলা হয়। এতে গ্রহটি খুব বেশি তপ্ত বা শীতল আবহাওয়ার হয় না। কেবল সেখানে প্রাণের জন্য অপরিহার্য তরল পানি থাকলেই হয়।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নিক্কু মধুসূদন বলেন, দূরের ওই গ্রহ থেকে পাওয়া ইঙ্গিত যদি সত্য হয়, তাহলে তা মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধানের পদ্ধতিকেই বদলে দেবে। তিনি বলেন, গবেষণায় গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব পেলে একটি বিষয়ের সম্ভাবনা প্রকট হবে। সেটি হলো– মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব সাধারণ ঘটনা। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মহাবিশ্ব ও প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে আমাদের ধারণায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটতে চলেছে।

আরও পড়ুন

×