বাংলাদেশি পর্যটকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব ভারতের হোটেল ব্যবসায়ীরা
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকা যেখানে হোটেলে প্রচুর বাংলাদেশি অবস্থান করেন (ফাইল ফটো)
শুভজিৎ পুততুন্ড, কলকাতা
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৩ | ১৬:০৯
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ও দার্জিলিংসহ বেশ কিছু জায়গায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মুহূর্তে একটি ট্রেন্ডিং বিষয় ‘বয়কট বাংলাদেশ’। ইন্ডিয়া-অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের পরাজয়ের পর বাংলাদেশের কিছু দর্শকের অস্ট্রেলিয়াকে সমর্থন এবং ইন্ডিয়া টিমকে ট্রলের ঘটনায় হ্যাসট্যাগে চলছে ‘বয়কট বাংলাদেশ’। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় এবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন দার্জিলিংয়ের হোটেল ব্যবসায়ীরা। একই স্রোতে গা ভাসিয়েছে সিমিকেরও একাধিক হোটেল মালিক।
রয়োপেরাস তক্তসং নামের একটি ফেসবুক পেজের ওয়ালে লেখা দেখা গেছে, ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য আমাদের হোটেলে বাংলাদেশি ট্যুরিস্টদের বুকিং বন্ধ রাখা হলো।’ এরপরই শোরগোল পড়ে যায়।
হোটেল মালিক রাম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার প্রভাব এটা। বিশ্বকাপ এবং তারপর বাংলাদেশের বাসিন্দাদের ভারতকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ট্রলের জেরেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। বাংলাদেশের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই। ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ খেলা হলে তাতে যদি বাংলাদেশ জয়লাভ করে তাহলে বাংলাদেশ ট্রল করবে সেটাই স্বভাবিক। একইভাবে ভারত জয়লাভ করলে যেমন ভারত ট্রল করে। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের খেলাতেও তেমটাই হয়। কিন্তু সেটার মধ্যে একটা স্পোর্টসম্যান স্পিরিট থাকে। দুই পক্ষেই নানান রকম কথাবার্তা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের কিছু দর্শক যেটা করছেন সেটা শুধুমাত্র নোংরামি।’
রাম বাবু আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বহু লেখক, গায়ক, সাংবাদিক আমার খুব পছন্দের। আমার মনে হয় শত্রুতার জায়গা তৈরি করছে বাংলাদেশের কিছু দর্শক। পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা হলে তারা আমাদের দেশের প্রতিপক্ষদের সাপোর্ট করবে তাতেও আপত্তি নেই। কিন্তু তারা শুধু সাপোর্ট করাতেই থেমে নেই, আমাদের দেশকে নিয়ে খুব বাজে কটূক্তি করে। যার প্রতিবাদস্বরূপ আমরা দার্জিলিং, সিল্করুটসহ সিকিমে যেসব হোটেল রয়েছে আমাদের সেসব হোটেলে বাংলাদেশের পর্যটকদের প্রবেশ নিষেধ করে দিয়েছি। পাশাপাশি তাদের অতীতেও অনেক ঘটনা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ভিসার ছবি পাঠিয়ে তারা হোটেল বুক করে। তারপর আর তাদের কোনো পাত্তা থাকে না। কাজেই তাদের এসব স্বভাবের জন্য আমরা আরও তাদের বাদ দিয়েছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দার্জিলিংয়ের এক হোটেল ব্যবসায়ী জানান, ‘আমরা সংবাদ মাধ্যমে এই বিতর্কিত বিষয় নিয়ে কথা বললে সংগঠনের কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে। কাজেই সাংগঠনিকভাবে নয়, আমি বা আমার মতো আরও অনেক হোটেল ব্যবসায়ীই বাংলাদেশের পর্যটকদের বুকিং নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। বাংলাদেশ থেকে হোটেল বুক করে তারা আর হোটেলে আসেন না। এই সমস্যা তাদের দীর্ঘদিনের। আমরা বহুবার ভুক্তভোগী। আবার হোটেলে এসে পৌঁছালেও তারা নিয়ম কানুনের কোনো তোয়াক্কা করেন না। কাজেই ক্ষোভ অনেক আগে থেকেই। বর্তমান সময়ের ঘটনা তাদের পাকাপাকিভাবে বাতিল করতে শুধুমাত্র সাহায্য করল।’
একদিকে যেমন একাধিক হোটেল বাংলাদেশি পর্যটকদের বুকিং বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্যদিকে ভিন্ন চিত্রও দেখা গেছে। হোটেল ব্যাবসায়ী অর্জুন ছেত্রী জানান, ‘অতিথি দেব ভব, আমরা পর্যটকদেরও সেই জায়গা থেকেই দেখি। তাদের বাতিল করার সিদ্ধান্ত বা সেই বিষয়ে চিন্তাধারা আমারা গ্রহণ করিনি। সংগঠন যা ভাববে আমরা সেই সিদ্ধান্তই গ্রহণ করব। আগে থেকেই বাংলাদেশের পর্যটকদের নিয়ে সমস্যা রয়েছে। কিন্তু তাদের পাকাপাকিভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিইনি।’
- বিষয় :
- ট্রল
- পশ্চিমবঙ্গ
