জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু ‘হত্যাকাণ্ড’: ময়নাতদন্তের রিপোর্ট
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২০ | ২১:৫৮ | আপডেট: ০২ জুন ২০২০ | ০২:২৫
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হওয়া কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের (৪৬) মৃত্যু ‘হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ফ্লয়েডের মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে বিবিসির অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশি নির্যাতনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ অফিসার ফ্লয়েডকে চেপে ধরলে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ময়নাতদন্তে জর্জ ফ্লয়েডের হৃদরোগ ও সাম্প্রতিক মাদক গ্রহণের প্রমাণও পাওয়া গেছে।
এর আগে ফ্লয়েডের পরিবারের পক্ষ থেকে আরেকটি পরীক্ষা করা হয়। সেই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লয়েডের মৃত্যু গলা ও ঘাড়ে চাপ প্রয়োগে শ্বাস বন্ধ হওয়ার কারণেই হয়েছে।
মিনিয়াপোলিসের এক পুলিশ অফিসার ফ্লয়েডকে মাটিতে ফেলে, হাঁটু দিয়ে ঘাড় চেপে ধরেন। পরিবারের পক্ষ থেকে করা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘাড়ের উপর ক্রমাগত হাঁটুর চাপ পড়ায়, মস্তিষ্কে রক্ত যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। তার উপর পুলিশ অফিসারের ভারী ওজনের কারণে শ্বাস নেওয়া জর্জের পক্ষে কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, রাস্তার উপরে ফ্লয়েডকে ফেলে তার ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছেন এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ। পরে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভের জেরে ১৩টি অঙ্গরাজ্যে জারি করা হয়েছে কারফিউ। রাজধানী ওয়াশিংটনসহ অন্তত ১৫টি অঙ্গরাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস এলাকায়ও টানা বিক্ষোভের পাশাপাশি পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষের ঘটনাও দেখা গেছে।
ফ্লয়েড হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডেরেক চাওভিন নামে ওই শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।