বালু বেচে বাঁচছে উত্তর কোরিয়া
ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২০ | ০২:৪৪ | আপডেট: ১০ জুন ২০২০ | ০৪:১৩
যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বকে তা মানাতে জাতিসংঘের চাপাচাপিতে অর্থনৈতিকভাবে যখন কোনঠাসা উত্তর কোরিয়া, তখন দেশটির কীইবা করার আছে বালু বেচা ছাড়া। জ্বালানি তেল, কেরোসিন ও ডিজেল বা পেট্রোলিয়াম নয়, কিংবা পাথর-কয়লাও নয়, সামান্য বালু! তাও বেচতে হচ্ছে সবার চোখের অন্তরালে গিয়ে। তাতেই নাকি মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার কামাচ্ছে ‘রকেট ম্যান’ খ্যাত তরুণ নেতা কিম জং উনের দেশ।
উত্তর কোরিয়ার ওপর সাগরপথে নজরদারি করে থাকে ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর অ্যাডভান্স ডিফেন্স স্টাডিজ (সি৪এডিএস)। এই সি৪এডিএ’র দুই গোয়েন্দা লুকাস কুও এবং লরেন সুং গত বছরের মে মাসে দেখতে পান, উত্তর কোরিয়ার হায়েজু এলাকার কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অন্তত ১০০ জাহাজ জড়ো হয়েছে। তারা উত্তর-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রে আরও গভির দৃষ্টি রাখলেন। কারণ, অভিযোগ রয়েছে, পিয়ংইয়ং কয়লাসহ আরও মূল্যবান জিনিসপত্র প্রচুর পরিমাণে অবৈধভাবে বিক্রি করেই যাচ্ছে। আর তা বিক্রি করছে গভীর সমুদ্রে গিয়ে, জাতিসংঘের নিয়োজিত আন্তর্জাতিক কাস্টমস কর্মকর্তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে। এসব মালামাল নিজেদের বন্দরে না এনে সাগরে এক জাহাজ থেকে তুলে দিচ্ছে আরেক জাহাজে। এভাবে ‘জাহাজ থেকে জাহাজে’ বাণিজ্যের মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার কামিয়ে নিচ্ছে ‘দুর্ভিক্ষপীড়িত’ উত্তর কোরিয়া।
উত্তর কোরিয়ার উপর ২০১৮ সালের আগ পর্যন্ত ১১ বছরে ১০বার নানান নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে জ্বালানি তেল, কয়লা, পাথর, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম রপ্তানি, এমনকি বিদেশে শ্রমিক পাঠানোতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে জাতিসংঘ। এরপর অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়া এবং বিশ্বের কাছ থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন কিমের দেশ অবৈধভাবে উপার্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সি৪এডিএ ’র দুই গোয়েন্দা লক্ষ্য করলেন, মোটামুটি ২৭৯টি বিশাল জাহাজ উত্তর কোরিয়ার আশপাশ দিয়ে ঘোরাঘুরি করে। এসব জাহাজে কোনো অস্ত্র নেওয়া হয় না, মেলে না কোনো নিষিদ্ধ ওষুধ কিংবা কোনো বিরল প্রজাতির প্রাণীও পাচার করা হচ্ছে না। এসব জাহাজে মিলছে না উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে লাভজনক রপ্তানি পন্য কয়লাও। তবে উত্তর কোরিয়া থেকে কি নিয়ে যায় বিদেশি এসব জাহাজ!
দুই গোয়েন্দা দেখলেন,সোনাগাজীতে 'ডাকাতদের গোলাগুলিতে' নিহত ১ জাহাজভর্তি শুধু বালু আর বালু। এসব জাহাজে তাহলে বালু রপ্তানি হচ্ছে! এটিও তো অবৈধ, কারণ ২০১৭ সালের জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞায় উত্তর কোরিয়ার মাটি ও পাথর রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বালু রপ্তানিতো আন্তর্জাতিক সেই নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন।
গত এপ্রিলে জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তারা এক রিপোর্টে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালু রপ্তানি করে উত্তর কোরিয়া গত বছর ২ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি দেশ উত্তর কোরিয়ায় তাদের বিশেষজ্ঞদল পাঠিয়ে খবর নিয়েছে, দেশটি ২০১৯ সালের মে থেকে ওই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ লাখ টন বালু বিদেশে রপ্তানি করেছে। এসব বালুর বেশির ভাগই চীনসহ আশপাশের দেশে গিয়েছে বলে অভিযোগ ওই গোয়েন্দাদের। কারণ কিছু জাহাজে চীনের পতাকা দেখা গেছে।
সি৪এডিএ ‘র গোয়েন্দা লরেন সুং বলেন, আমরা দেখেছি নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে প্রতিবেশি দেশগুলোতে প্রচুর পরিমাণ বালু রপ্তানি করে উত্তর কোরিয়া।
বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী মানুষের ঘরবাড়ি, অবকাঠামো গড়তে প্রতিবছর ৫ হাজার কোটি টন বালু লাগে। বিশ্বচাহিদার একটি বিশাল অংশই সরবরাহ করে উত্তর কোরিয়া। সিএনএন অবলম্বনে।
- বিষয় :
- উত্তর কোরিয়া
- কিম জং উন
- জাতিসংঘ
- বালু