ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

নরকে মৃত্যু!

ইসরায়েলের কারাগারে ফিলিস্তিনি চিকিৎসকদের ভাগ্যে যা ঘটে

ইসরায়েলের কারাগারে ফিলিস্তিনি চিকিৎসকদের ভাগ্যে যা ঘটে
×
×

ইসরায়েলের ওফের কারাগার (ছবি-রয়টার্স)

নাইমুর রহমান

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৪ | ১৭:৪৫ | আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২৪ | ১৭:৪৭

ডা. আদনান আল-বুর্শ একজন ফিলিস্তিনি চিকিৎসক। গাজার আল-শিফা হাসপাতালের প্রধান অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ তিনি। ইসরায়েলি সেনাদের হাতে আটক হওয়ার পর তার জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ দুর্ভোগ। তিনি গাজার আল-আওদা হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে গিয়ে আটক হন। পরে ইসরায়েলের কারাগারেই মারা যান। 

ইসরায়েলের মানবাধিকার সংগঠন হ্যামোকেড জানায়, আল-বুর্শ ও তার সহকর্মীদের ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র নামে আটক করা হয়। এর চার মাস পর দেশটির ওফের কারাগারের রক্ষী তাকে বের করেন এবং টেনেহেঁচড়ে কারাগারের সামনের খোলা স্থানে ফেলে রাখেন। তার কোমরের নিচের অংশে কোনো কাপড় ছিল না; রক্ত ঝরছিল। তিনি দাঁড়াতে পারছিলেন না। তাকে চিনতে পেরে কয়েকজন তাদের কক্ষে নিয়ে যান। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। 

ডা. আল-বুর্শ ভিডিও’র মাধ্যমে ফিলিস্তিনের চিকিৎসকদের দৈনন্দিন সংগ্রামের ছবি তুলে ধরেছিলেন। হতাহতদের চিকিৎসা, গণকবর খনন ও অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করার চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে এনেছিলেন তিনি। 

গাজার হাসপাতালগুলো, বিশেষ করে আল-শিফা হামলার লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল। সেখানে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। চলতি নভেম্বরের মাঝামাঝিতে আল শিফা হাসপাতাল খালি করার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আশ্রয়প্রার্থীসহ অন্তত ৫০ হাজার মানুষ অন্যত্র আশ্রয় নেন। ডা. আল-বুর্শ উত্তর গাজার ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালে যান। পরে সেখানে হামলা হলে তার নতুন কর্মক্ষেত্র হয় আল আওদা হাসপাতাল। ওই হাসপাতাল থেকে তাকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। তাকে যে কারাগারে রাখা হয়, সেটাকে ইসরায়েলের মানবাধিকার সংস্থা বি-সেলেম ‘নরক’ বলে বর্ণনা করেছে। গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে আইডিএফ। 

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩১০ ফিলিস্তিনি চিকিৎসককে আটক করেছে ইসরায়েল। কারাগারে এ চিকিৎসকরা নির্মম আচরণের শিকার হয়েছেন। 

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই তাদের আটক করা হয়েছে। তদন্তের নামে দীর্ঘ সময় ধরে চালানো হয় অত্যাচার-নির্যাতন। একাধিক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, কারাগারে তাদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও শারীরিক সহিংসতা নিয়মিত ঘটনা। তাদের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা অসুস্থ হলে চিকিৎসা দেওয়া হয় না, আইনী সহযোগিতা তো দূরের কথা। 

২০২২ সালে ইতামার বেন-গাভির জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর কারাগারের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। অভিযোগ আছে, তিনি বন্দীদের প্রতি অমানবিক আচরণে সায় দেন। ফলে ফিলিস্তিনের বন্দীদের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। সম্প্রতি তিনি বন্দীদের অধিকারের সীমাবদ্ধকরণকে পুরস্কারের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। ফলে ফিলিস্তিনিরা যে নরক পরিস্থিতির মধ্যে আছেন, তা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সূত্র: আল জাজিরা

আরও পড়ুন

×