অনাগত শিশুরা যাতে জানতে পারে তাদের জন্য লড়েছিলাম
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নারী রুহি বললেন
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নারী রুহি লোরেন আকতার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৫ | ১৩:৪৩ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৫ | ১৩:৪৮
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার জাহাজ বহর যখন ভূমধ্যসাগর হয়ে গাজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন সমুদ্র-ঢেউ আর নীল আকাশের পটভূমিতে এক নারী সরাসরি তাঁর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে যাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, ঝুঁকি নিয়ে কেন তিনি গাজার অভিমুখে ছুটে চলেছেন; সামনে তাদের কী প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে? হালকা বেগুনি স্কার্ফে চুল ঢাকা ওই নারী কথা বলেন সিলেটি উচ্চারণে। বাংলাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে গাজাগামী বহরে আছেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। তাহলে বাংলায় কথা বলা এই নারী আসলে কে?
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি রুহি লোরেন আকতার; বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ। গাজার অবরোধ ভাঙতে ফ্লোটিলার সাহসী অভিযাত্রায় পর্যবেক্ষক জাহাজ ‘সামারটাইম জং’-এর আরোহী ছিলেন তিনি। মানবাধিকার কর্মী। তিনি রিফিউজি বিরিয়ানি অ্যান্ড ব্যানানা-আরবিবির প্রতিষ্ঠাতা, যা শরণার্থীদের সহায়তায় কাজ করে আসছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করা ফ্লোটিলার বহরে ছিলেন তিনিও।
ফ্লোটিলা জাহাজ বহর থেকেই মূলত বিশ্বব্যাপী সবার নজরে আসেন রুহি। সামাজিক মাধ্যমে পরিস্থিতি শেয়ার করেন, যা নজরে রাখছিল পুরো বিশ্ব। এক ভিডিওতে নিজের পরিচয় তুলে ধরে রুহি বলেন, ‘আমার নাম রুহি লোরেন আকতার। আমি মূলত বাংলাদেশের সিলেটি বংশোদ্ভূত। জন্ম ইংল্যান্ডের নিউক্যাসলে।’ তিনি জানান, তিনি একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ; কাজ করেছেন ব্রিটিশ সরকারের হয়ে। ১০ বছর আগে তিনি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তখনই তিনি আরবিবি প্রতিষ্ঠা করেন। বিশেষ করে সিরিয়ার যুদ্ধে দুর্গত মানুষকে সহায়তার জন্য তিনি এটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
রুহি জানান, তিনি গাজা, সুদান, বসনিয়ায় মানুষের কাছে গিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন। বিশেষ করে শরণার্থীদের তিনি সহায়তা দেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এ ব্রিটিশ বলেন, ‘আমি আমার চাকরি ছেড়েছি মানুষের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করতে।’ ভূমধ্যসাগরে গাজা অভিমুখে যাওয়া জাহাজ থেকে রুহি বলেন, তিনি একটি পর্যবেক্ষক নৌযানে আছেন। এ জাহাজ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে।
শুক্রবার একে একে ফ্লোটিলার সবগুলো জাহাজ জব্দ করে ইসরায়েল। গাজার কাছাকাছি জলসীমায় প্রবেশের পর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা ভিডিও বার্তায় রুহি বলেন, গাজায় যাচ্ছি। কারণ, সেখানে গণহত্যা চলছে। এক সময় বাংলাদেশও লড়াই করেছে। এ জন্য তাদের সঙ্গে আমাদের মিল। তিনি বলেন, মানুষ যেখানেই হোক– ফিলিস্তিন, কঙ্গো, সুদান, বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানে– আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের পাশে দাঁড়ানো।
রুহি বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি আজকের মানুষের জন্য এবং আগামী দিনের শিশুর জন্য। অনাগত শিশুরা যাতে জানতে পারে– আমরা তাদের জন্য লড়াই করছিলাম। যখন নির্মমতা ও অবিচার সংঘটিত হচ্ছিল, আমরা তাদের জন্য লড়েছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে এ অভিযাত্রায় অংশ নিয়ে অন্য ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকতে চাই।
রুহি জানান, দুই মাস ধরে তিনি গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সঙ্গে আছেন। তিনি কায়রো গিয়ে গাজা নিয়ে প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি তিউনিসিয়ায় যান। সেখানে ফ্লোটিলার আয়োজকদের কাছে সমুদ্র যাত্রার প্রশিক্ষণ নেন। সেখান থেকে তিনি ইতালিতে গিয়ে ফ্লোটিলার জাহাজ বহরে যোগ দেন।
ইসরায়েলের নৌবাহিনী ফ্লোটিলার ৪২টি নৌযান জব্দ করেছে এবং সব আরোহীকে নিয়ে গেছে। গাজার নিকটবর্তী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার নৌযানগুলোর পরিণতি সম্পর্কে খবর দিচ্ছিলেন রুহি। ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে তিনি বলেন, গত রাতে শিশুখাবারসহ গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ বহনকারী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার জাহাজ আটকে দিয়েছে ইসরায়েলের নৌবাহিনী। এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক লঙ্ঘন। তবে এটাই শেষ নয়।
- বিষয় :
- গাজায় হামলা
- ভূমধ্যসাগর
- সুমুদ ফ্লোটিলা
