স্বীকৃতি
উদ্ভাবন ও অগ্রগতির সম্পর্ক আবিষ্কার
অর্থনীতিতে নোবেল ৩ বিজ্ঞানীর
(বাঁ থেকে) জোয়েল মোকিয়র, ফিলিপ আগিয়োঁ ও পিটার হাউইট
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | ০৮:৫২
| প্রিন্ট সংস্করণ
টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন তিন গবেষক। তারা হলেন আমেরিকান-ইসরায়েলি জোয়েল মোকিয়র, ফ্রান্সের ফিলিপ আগিয়োঁ ও কানাডার পিটার হাউইট।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নোবেল কর্তৃপক্ষ বলছে, গত দুই শতকের ইতিহাসে বিশ্ব প্রথমবারের মতো টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখেছে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং সমৃদ্ধির ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে। তিন গবেষক ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে উদ্ভাবন আরও অগ্রগতির প্রেরণা জোগায়।
গতকাল সোমবার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে রয়াল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস। গবেষকদের মধ্যে জোয়েল মোকিয়র (৭৯) প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধির প্রয়োজনীয় শর্তগুলো চিহ্নিত করেছেন। তিনি পুরস্কারের অর্ধেক অর্থ পাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোকিয়র দেখিয়েছেন, কীভাবে টেকসই প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়।
আর ‘ক্রিয়েটিভ ডেস্ট্রাকশন’ বা ‘সৃজনশীল বিনাশ’ তত্ত্ব ব্যাখ্যা করার জন্য পুরস্কারের বাকি অর্থ পাবেন আগিয়োঁ (৬৯) ও হাউইট (৭৯)। ১৯৯২ সালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে তারা ‘সৃজনশীল বিনাশ’ নামে পরিচিত গাণিতিক মডেল তুলে ধরেন। নতুন ও উন্নত কোনো পণ্য বাজারে আসার পর পুরোনো পণ্য বিক্রি করা কোম্পানিগুলো কীভাবে পিছিয়ে পড়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেটি এই তত্ত্বে দেখানো হয়েছে।
নোবেলজয়ীরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখিয়েছেন, বাজারে নতুন উদ্ভাবন পুরোনোর সঙ্গে কিছু সংঘাত তৈরি করে, যেগুলোকে গঠনমূলক উপায়ে মোকাবিলা করতে হয়। তা না হলে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি বা গোষ্ঠীগুলো নিজেদের ঝুঁকি বিবেচনায় নতুন উদ্ভাবনকে বাধা দিতে পারে।
পুরস্কার কমিটির চেয়ার জন হাসলার সাংবাদিকদের বলেন, গবেষকদের কাজের মাধ্যমে বোঝা গেছে, কীভাবে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে এবং তা দীর্ঘ মেয়াদে বজায় রাখা যায়।
হাউইট যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির ইমেরিটাস অধ্যাপক আর আগিয়োঁ প্যারিসের কলেজ দো ফ্রঁস এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক।
পুরস্কার ঘোষণার পর অধ্যাপক আগিয়োঁ কথা বলেছেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। বর্তমান বিশ্বে প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে উচ্চ শুল্ক আরোপের যে হুমকি দিয়েছেন, সেটি একটি ঝুঁকি। প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হলো উন্মুক্ততা। এতে বাধা তৈরি করে এমন যে কোনো কিছু প্রবৃদ্ধির অন্তরায়।’ প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপকে সতর্ক হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন এই অর্থনীতিবিদ।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, অর্থনীতিতে নোবেলই একমাত্র পুরস্কার, যেটি সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের উইল বা ইচ্ছাপত্রে (১৮৯৬) উল্লেখ ছিল না। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুদানের মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ কারণে সমালোচকরা এটিকে ‘ভুয়া নোবেল’ বলেও অভিহিত করেন। তবে রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের মতোই এই পুরস্কারের বিজয়ী নির্বাচন করে রয়াল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।
- বিষয় :
- নোবেল
