ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ফিলিস্তিনি বন্দি ও মুক্ত জিম্মিদের বিপরীত অভিজ্ঞতা

ইসরায়েলের কারাগারে অভুক্তি, নির্যাতনের অভিযোগ

ফিলিস্তিনি বন্দি ও মুক্ত জিম্মিদের বিপরীত অভিজ্ঞতা
×

 সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৫৩ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৫ | ১০:০৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

ইসরায়েলের কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারামুক্ত ফিলিস্তিনিরা ছিলেন রুগ্‌ণ। কেউ কেউ অসুস্থ। কারও গায়ে আঘাতের পুরোনো ক্ষত। অনেকে অভুক্ত রাখা ও নির্যাতন চালানোর গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তারা বলছেন, মুক্তির আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। কারাগারে অমানবিক পরিবেশে তাদের রাখা হয়েছিল।

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হাতে যারা জিম্মি ছিলেন, তাদের বেশ স্বাচ্ছন্দ্য ও সাবলীল মনে হয়েছে। বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মুক্ত হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে তাদের প্রথম সাক্ষাতের ফুটেজ প্রকাশ পায়। এতে দেখা যায়, জিম্মিরা বেশ সাবলীল; স্বাভাবিকভাবে হেঁটেই তারা স্বজনদের জড়িয়ে ধরছেন। ইসরায়েলের অবরোধের কারণে গাজায় মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। কিন্তু এর কোনো প্রভাব জিম্মিদের ওপর পড়েনি। মুক্ত জিম্মিরা পরিচ্ছন্ন কাপড় পরা অবস্থায় ছিলেন। তবে একজন জিম্মি হারেৎজকে বলেছেন, ইসরায়েলের অবরোধের কারণে তারাও খাদ্য সংকটে পড়েছিলেন। 

সোমবার পাল্টাপাল্টি জিম্মি ও বন্দি মুক্তির পর আবারও বিষয়টি সামনে আসে। এদিন অধিকৃত পশ্চিম তীরের তুলকারমের বাসিন্দা ৫৮ বছরের আবু শানাব ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্ত হন। বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে তিনি বলেন, ‘কারাগারের পরিস্থিতি খুবই কঠিন। সেখানে নির্যাতন-নিপীড়ন, অপমান করা ও ভয়ের পরিবেশ। সব ধরনের খারাপ কিছুই ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে করা হয়। পরিস্থিতি বর্ণনাতীত।’

খান ইউনিসের বাসিন্দা কারামুক্ত আবদাল্লাহ আবু রাফি আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমরা ছিলাম এক কসাইখানায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই কসাইখানার নাম ছিল ওফের কারাগার। অনেক তরুণ এখনও সেখানে আছেন। অবস্থা খুবই ভয়াবহ। সেখানে কোনো তোশক নেই। খাবারের অবস্থা খুব খারাপ। সবকিছুই সেখানে কঠিন।’ মুক্তি পাওয়া আরেক ফিলিস্তিনি ইয়াসিন আবু আমরা বলেন, ‘খাবার, নির্যাতন, প্রহার– সব দিক থেকেই অবস্থা ভয়ানক।’

গাজার ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ধ্বংস: জাতিসংঘ
গাজা উপত্যকার ৮০ শতাংশের বেশি ও গাজা সিটির ৯২ শতাংশ ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। গতকাল মঙ্গলবার বিবিসি জানায়, জেনেভায় ইউএনডিপির এক মুখপাত্র গাজার ধ্বংসস্তূপকে ‘বিধ্বংসী’ বলে বর্ণনা করেন। সংস্থাটির অনুমান, সেখানে কমপক্ষে সাড়ে পাঁচ কোটি টন ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করা প্রয়োজন। গাজাকে আবার বাসযোগ্য করে তুলতে সাত হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হবে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যে ৯ ফিলিস্তিনিকে হত্যা
গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যে গুলি চালিয়ে ৯ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। আলজাজিরা জানায়, গতকাল মঙ্গলবার গাজা সিটির সুজাইয়া উপকণ্ঠে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। 

আরও পড়ুন

×