ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শিক্ষামন্ত্রীর পদতাগের দাবি, রাজপথে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি

শিক্ষামন্ত্রীর পদতাগের দাবি, রাজপথে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি
×

প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ২১:৫৫ | আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ | ২২:৫২

অনলাইনে শোরগোল ফেলে দেওয়ার পর এবার রাজপথে নামছে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আগামীকাল শনিবার রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে তারা। দলটির দাবি, ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। রাজপথের কর্মসূচি সামনে রেখে নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামোও দৃশ্যমান করতে শুরু করেছে সিজেপি। 

গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘সিস্টেমের যেখানে পচন ধরেছে, সেখান থেকে ন্যূনতম জবাবদিহিতা আশা করছি আমরা।’ 

এদিকে তাদের এ আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লাদাখের জনপ্রিয় সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শিক্ষা, পরিবেশ এবং হিমালয় অঞ্চলের মানুষের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরব এই সমাজকর্মীর আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। খবর হিন্দুস্তান টাইমস ও রয়টার্সের

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন ফাঁস ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি বাতিল এবং দেশটির দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ককরোচ জনতা পার্টি এসব কারণেই তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে। 

সিজেপি মূলত আত্মপ্রকাশ করেছিল ব্যঙ্গাত্মক মিম পেজ হিসেবে। নিজেদের এখন প্রেশার গ্রুপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে তারা। গত বুধবার দলটির পক্ষ থেকে তিন মুখপাত্রের নাম ঘোষণা করা হয়। তিন মুখপাত্রের একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক, একজন গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং আরেকজন ভারতের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আইআইটির সাবেক শিক্ষার্থী। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, তাদের দল কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক দল নয়। তারা যুবসমাজের স্বার্থে প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করবেন। 

এর আগে, গত সোমবার সামাজিকমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে জানান, তিনি আগামীকাল শনিবার ভারতে ফিরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।  দীপকে আরও উল্লেখ করেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরছেন শুধু শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন ব্যর্থতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে। পাশাপাশি তাঁর সমর্থকদের দিল্লি বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান দীপকে। তাঁর পরিকল্পনা হলো, বিমানবন্দর থেকে সবাই পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করার অনুমতি চাইবেন। তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ অহিংস ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে বলেও উল্লেখ করেন।

দীপকে সে ভিডিও বার্তায় আরও বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারণে বহু শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্বাক্ষর করেছেন আট লাখ ককরোচ বা তেলাপোকা। 
প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত দেশের তরুণ সমাজের একাংশের প্রতি কটাক্ষ করে বলেন, ‘এক শ্রেণির তরুণ রয়েছেন, যারা কোথাও কিছুই করতে পারেননি। কোনো পেশায় জায়গা করে নিতে পারেননি। কোনো কাজ জোগাড় করতে পারেননি। তাদের কেউ সাংবাদিক হয়েছেন, কেউ সামাজিক মাধ্যমে ঢুকে গেছেন, কেউ আইন পেশায়, কেউবা তথ্য জানার অধিকার আন্দোলনের কর্মী।’ এই তরুণদের ‘তেলাপোকা’ তকমা দেন তিনি। ওই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টি শুরু করেন অভিজিৎ দীপকে। অল্প সময়ের মধ্যেই  ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা গিয়ে ঠেকে দুই কোটির ঘরে।  আর তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে সদস্য সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যায়। ভারতের ক্ষুব্ধ তরুণরা একাট্টা হন। 

আরও পড়ুন

×