ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কুয়ালালামপুরে বৈঠক

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

সমন্বয়, তথ্য ভাগাভাগি ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়বে, বলছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা চুক্তি সই
×

চুক্তি সই করার পর সাংবাদিকদের সেই নথি দেখান পিট হেগসেথ (বাঁয়ে) এবং ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং -এক্স

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫ | ০৮:০৩ | আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৫ | ১১:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী ১০ বছর প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণে একটি চুক্তিতে সই করেছে। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বৈঠকের পর এ চুক্তি হয়। এ চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়বে; একে অন্যের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করবে।

এমন এক সময়ে এ চুক্তিটি হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা আরোপ করেছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওয়াশিংটনের সঙ্গে নানা ইস্যুতে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না নয়াদিল্লির। সম্প্রতি বিপুল সংখ্যক অবৈধ ভারতীয়কে অপমানজনকভাবে ফেরত পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। 

চুক্তি সইয়ের পর সামাজিক মাধ্যম এক্সে হেগসেথ জানান, এ চুক্তির ফলে দুই দেশের ‘সমন্বয়, তথ্য ভাগাভাগি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা’ বাড়বে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ‘অতীতে কখনও এমন শক্তিশালী ছিল না’ জানিয়ে হেগসেথ বলেন, ‘আমি রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে ১০ বছরের যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রতিরক্ষা কাঠামো সইয়ের জন্য সাক্ষাৎ করি। এটি আমাদের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিয়ে গেছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধের ভিত্তি। আমরা সমন্বয়, তথ্য ভাগাভাগি ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বৃদ্ধি করছি।’ বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তিটি ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্কের সার্বিক পরিসরে নীতিগত দিকনির্দেশনা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ নিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক পোস্টে লেখেন, ‘এটি আমাদের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অভিন্নতার ইঙ্গিত এবং অংশীদারিত্বের একটি নতুন দশকের সূচনা করবে। প্রতিরক্ষা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি প্রধান স্তম্ভ হিসেবে থাকবে। একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিশ্চিত করতে আমাদের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ 

আসিয়ান সম্মেলনের সাইডলাইনে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ বৈঠক হয়। আজ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করতে আসিয়ান দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা বৈঠকে বসবেন। দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে এ চুক্তিকে আরও ১০ বছরের জন্য তৃতীয়বারের মতো ‘নবায়ন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৯৫ সালে প্রথম ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের চুক্তি করে। পরে ২০২৫ সালে এটি আবার নবায়ন করা হয়। পরে ২০১৫ সালে এটি আবারও নবায়ন হয়।
ইউরেশিয়া গ্রুপ থিঙ্ক ট্যাঙ্কের প্রমিত পাল চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি এ বছরের জুলাই-আগস্টে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে ট্রাম্পের ভূমিকা সম্পর্কে ভারতের বিরক্তির কারণে এটি বিলম্বিত হয়। এটি দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক চুক্তির মধ্যে সর্বশেষ, যা দুটি সামরিক বাহিনীর জন্য আন্তঃকার্যক্ষমতা অর্জন, ভারতের প্রযুক্তি সুবিধা ও দুটি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করা সহজ করে তুলবে। 

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে ধারাবাহিকভাবে জোরদার করছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রতিরক্ষা ছিল ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতে সামরিক সরঞ্জামের বিক্রি বহু বিলিয়ন ডলার বাড়াবে। ফলে দিল্লি পাবে এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান।

পরে রাশিয়ার তেলের ওপর দিল্লির নির্ভরতা এবং মস্কোর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় বিরক্তির বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। রাশিয়া ভারতের অস্ত্রের একটি প্রধান সরবরাহকারী হলেও দিল্লি তার পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যময় করতে এবং অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে। এ কারণে ভারতীয় প্রতিরক্ষা আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ক্রমাগত কমছে।

গত কয়েক মাসে ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্রয় বাড়ানোর জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দুই দেশ উচ্চস্তরের বাণিজ্য আলোচনার মধ্যে আছে। ভারত চায়, যুক্তরাষ্ট্র যাতে তাদের পণ্যে শুল্ক কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসে। ভারতের প্রত্যাশা চলতি নভেম্বরের মধ্যেই বাণিজ্য নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। 

 

আরও পড়ুন

×