১২ হাজার বছর পর অগ্ন্যুৎপাত: ইথিওপিয়ার ছাইয়ের গন্তব্য কোথায়
আফার অঞ্চলের স্থানীয়রা অগ্ন্যুৎপাতের ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন। ছবি: ব্রিউ নিউজ
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৫:৪৯
অনেকেই ভাবেননি ১২ হাজার বছর পর ঘুম ভাঙবে ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরির। গত রোববার সকালে ব্যাপক গর্জনে তা ফেটে পড়ে। সৃষ্টি হয় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির। ছাই-ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে থাকে দেশে দেশে। এরই মধ্যে বাতাসে সওয়ার ধোঁয়া পৌঁছে গেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে। যেতে পারে চীনেও। নাকি এর গন্তব্য অন্য কোনো দেশে?
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের নগরীর তালিকায় সামনের সারিতেই থাকে দিল্লি। এবার তাতে যোগ হয়েছে অগ্ন্যুৎপাতের ছাই-ধোঁয়া। গতকাল মঙ্গলবার এনডিটিভি জানায়, দিল্লিতে ছাই-ধোঁয়ার কারণে বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়।
অগ্ন্যুৎপাত হওয়া হাইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরির অবস্থান ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে। এর ছাই-ধোঁয়া উঠে যায় বায়ুমণ্ডলের কয়েক হাজার ফুট ওপরে। সেই ছাইয়ের স্তর ভারতে প্রথম গুজরাট রাজ্যের আকাশে দেখা যায়। তারপর সেগুলো ভেসে যায় রাজস্থান, দিল্লি, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে।
তুলুস ভলকানিক অ্যাশ অ্যাডভাইজরি সেন্টারের তথ্যের বরাত দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সিএনএন জানায়, অগ্ন্যুৎপাতের মেঘ ইয়েমেন, ওমান, পাকিস্তান ও ভারতে ভেসে গেছে। গত সোমবার রাতে পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগ তাদের আকাশসীমায় ছাই প্রবেশের পর সতর্কতা জারি করে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, তীব্র বায়ুদূষণের মধ্যে থাকা দিল্লিতে এ ছাই-ধোঁয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব পড়ার শঙ্কা নেই। কারণ, এ ছাই যতেষ্ট উচ্চতায় ভেসে বেড়াচ্ছে।
ভারতের বিমান পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা সতর্কতা জারি করে বলেছে, বিমানগুলোকে অবশ্যই আগ্নেয়গিরির ছাই-প্রভাবিত এলাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইট-লেভেলগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। সর্বশেষ সতর্কতার ওপর ভিত্তি করে রুট ও জ্বালানি পরিকল্পনা সমন্বয় করতে হবে।
ডিজিসিএ এয়ারলাইনগুলোকে নির্দেশ দেয়, কোনো সন্দেহজনক ছাইয়ের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে তা অবিলম্বে জানাতে হবে। এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো, স্পাইসজেটসহ একাধিক এয়ারলাইনে এর প্রভাব পড়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়া জানায়, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর তারা ১১টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। বাতিল ফ্লাইটগুলোর মধ্যে আছে– নিউওয়ার্ক-দিল্লি, দুবাই-হায়দরাবাদ, দোহা-মুম্বাই, দুবাই-চেন্নাই, দাম্মাম-মুম্বাই, দোহা-দিল্লি, চেন্নাই-মুম্বাই, হায়দরাবাদ-দিল্লি ইত্যাদি।
এক আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ জানান, এ ছাইয়ের মেঘ মূলত সালফার ডাই-অক্সাইড। এর ছাইয়ের মাত্রা কম থেকে মাঝারি। এটি ভারতের উত্তরপ্রদেশের টেরাই অঞ্চল, নেপাল ও হিমালয়ের দিকে যাচ্ছে। মেঘের কিছু অংশ পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে চীনের দিকে সরে যেতে পারে।
ইথিওপিয়ার ভূমিকম্পপ্রবণ আফার অঞ্চলে হাইলি গাবি আগ্নেয়গিরিটি অগ্ন্যুৎপাত করে আকাশে ১৪ কিলোমিটারের ঘন ধোঁয়ার স্তম্ভ তোলে। তাতে বহু গ্রাম ছাইয়ে ঢেকে যায়। আগ্নেয়গিরিটি রিফট ভ্যালি অঞ্চলে প্রায় ৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত, যেখানে দুটি টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয়েছে। স্থানটি ভূতাত্ত্বিকভাবে বেশ সক্রিয়। অগ্ন্যুৎপাতের পর সামাজিক মাধ্যমে এর ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, ধোঁয়ার মেঘ ছেয়ে ফেলছে আকাশ, অনেকটা পারমাণবিক বোমার সৃষ্ট কুণ্ডলীর মতো।
স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের গ্লোবাল ভলকানিজম প্রোগ্রাম জানায়, আগ্নেওগিরিটি হোলোসিন যুগে, অর্থাৎ প্রায় ১২ হাজার বছর আগে সর্বশেষ অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়। ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির ভূবিজ্ঞানী জুলিয়েট বিগস বলেন, ‘যদি ১২ হাজার বছরেরও আগে শেষ অগ্ন্যুৎপাত হয়, তবে আমি অত্যন্ত অবাক হব!’
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি হয়নি। তবে স্থানীয় পশুপালক বা খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
- বিষয় :
- ইথিওপিয়া
- আগ্নেয়গিরি
