ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আলেক্সান্দ্রিয়ার উপকূলে মিসরের প্রমোদতরী

আলেক্সান্দ্রিয়ার উপকূলে মিসরের প্রমোদতরী
×

সমুদ্রের নিচে আবিস্কৃত প্রাচীন মিসরের বিলাসবহুল রাজকীয় প্রমোদতরী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:৫৭ | আপডেট: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৩:০২

মিসরের আলেক্সান্দ্রিয়ার উপকূলে সমুদ্রের নিচে মিলেছে প্রাচীন মিসরের এক বিলাসবহুল রাজকীয় প্রমোদতরী, যা বিস্ময়করভাবে মিলে গেছে গ্রিক ইতিহাসবিদ স্ট্রাবোর বর্ণনার সঙ্গে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের ভাষায়, এটি মিসরে প্রথমবার আবিষ্কৃত এ ধরনের নৌযান।

প্রায় দুই হাজার বছর আগে নির্মিত এই প্রমোদতরীর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৩৫ মিটার এবং প্রস্থ প্রায় ৭ মিটার। নৌকার মাঝখানে ছিল একটি উঁচু প্যাভিলিয়ন ও সুসজ্জিত কেবিন, যা রাজপরিবারের ভ্রমণ ও উৎসবমুখর যাত্রার জন্য ব্যবহার করা হতো। 

গবেষকদের ধারণা, এটি চালাতে ২০ জনেরও বেশি বৈঠাচালকের প্রয়োজন হতো। প্রমোদতরীটি আবিষ্কৃত হয়েছে আলেক্সান্দ্রিয়ার ডুবে যাওয়া অ্যান্টিরোডোস দ্বীপের কাছে; প্রাচীন পোর্টাস ম্যাগনাস বন্দরের অংশে। প্রাচীন গ্রিসের খ্যাতনামা ভূগোল ও ইতিহাসবিদ এবং বিশ্বখ্যাত গ্রন্থ ‘জিওগ্রাফিকা’র রচয়িতা স্ট্রাবো খ্রিষ্টপূর্ব ২৯-২৫ সালের মধ্যে আলেক্সান্দ্রিয়া সফর করে এমন নৌযানের কথা লিখেছিলেন।

স্ট্রাবোর ভাষ্যমতে, রাজদরবারের সদস্যরা এমন নৌযানে চড়ে উৎসব ও শোভাযাত্রায় অংশ নিতেন, যেখানে চলত নাচ-গান ও উল্লাস। এর বিশেষ নকশার কারণে প্রথমে প্রত্নতত্ত্ববিদরা ভেবেছিলেন, দুটি জাহাজ একটির ওপর আরেকটি চাপা পড়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছে, খ্রিষ্টীয় ৫০ সালের দিকে আইসিস মন্দির ধ্বংসের সময় ভূমিকম্প ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে এটি ডুবে যায়। 

গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার প্রাচীন রোমান আমলের মিসরের বিলাসী জীবন, ধর্মীয় আচার ও জলপথভিত্তিক সংস্কৃতির এক নতুন চিত্র তুলে ধরবে। নৌকাটি সংরক্ষণের স্বার্থে সমুদ্রতলেই রেখে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এ খননকাজ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে মিসরীয় কর্তৃপক্ষ। দ্য গার্ডিয়ান।
 

আরও পড়ুন

×