ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ট্রাম্পের ১৯ মিনিটের ভাষণে ডিম-টার্কির দাম আর অভিবাসীদের আক্রমণ

ট্রাম্পের ১৯ মিনিটের ভাষণে ডিম-টার্কির দাম আর অভিবাসীদের আক্রমণ
×

হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণে ছিল কেবল নিজের গুণগান, জো বাইডেনের সমালোচনা ও অভিবাসীদের প্রতি আক্রমণ। ছবি: এএফপি

আলজাজিরা

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:৪০ | আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:৫৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। ভাষণে তিনি তাঁর প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরেন, অভিবাসীদের নিয়ে কড়া মন্তব্য এবং ডেমোক্র্যাটিক পূর্বসূরিকে (জো বাইডেন) আক্রমণ করেন।

সাধারণত বড় কোনো ঘোষণা দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তবে বুধবার ১৯ মিনিটের ওই ভাষণে ট্রাম্প- ‘দেশের পরিস্থিতি ভালো যাচ্ছে’ এমন বয়ান তুলে ধরেন। প্রেসিডেন্ট এমন সময়ে গুনগান গাইলেন যখন জরিপে তাঁর নিজের জনপ্রিয়তা কমতে দেখা গেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন,‘জাতি হিসেবে আমরা শক্তিশালী। আমাদের দেশ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরো শক্ত অবস্থানে ফিরে এসেছে। আমরা এমন এক অর্থনৈতিক উল্লম্ফনের দ্বারপ্রান্তে, যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি।’

ভাষণে এরপরই ট্রাম্প অভিবাসীদের দিকে নানা অভিযোগের তির ছোঁড়েন। বলেন, আবাসন সংকটসহ দেশের নানা সমস্যার জন্য অভিবাসীরা দায়ী। অবৈধ অভিবাসীরা আমেরিকানদের চাকরি কেড়ে নিয়েছে। জরুরি বিভাগগুলো তাদের দিয়ে ভর্তি। সেখানে তারা বিনা খরচে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু সেটির অর্থ যোগাচ্ছেন আমেরিকান করদাতারা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো বলেন, ‘অভিবাসীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় এমন মাত্রায় বাড়িয়েছে, যে সংখ্যা উল্লেখ করার মতো নয়।’ কিন্তু বহু গবেষণায় দেখা গেছে, অভিবাসীরা অর্থনীতি থেকে যে সুবিধা নেন, এর চেয়ে অনেক বেশি অবদান রাখেন। কৃষিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর মাধ্যমে দেশের খাদ্য যোগান নিশ্চিত হয় এবং নতুন বাড়ি নির্মাণ খাত এগিয়ে যায়।

আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের ২০২৩ সালের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সে বছর অভিবাসীরা ৬৫১ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর পরিশোধ করেন। এবং মোট ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড (পণ্য বা পরিষেবা তৈরি, বণ্টন, ভোগ) সৃষ্টি করেন।

ডিম-টার্কির দাম
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণে মার্কিনীদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমার প্রসঙ্গও ছিল। করোনাকালের সময় জো বাইডেনের মেয়াদে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিয়ে সঠিক তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু পণ্যের দাম কমার দাবি জোরালো করতে গিয়ে এমন কিছু তথ্য দিয়েছেন যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মার্চের পর থেকে ডিমের দাম ৮২ শতাংশ কমেছে। বাকি সবকিছুর দামও দ্রুত কমছে। দেখুন আমরা কতটা অগ্রগতি করছি।’ কিন্তু বাস্তবতা হলো, বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবের কারণে ফেব্রুয়ারিতে (ট্রাম্পের মেয়াদের শুরুর দিকে) ডিমের দাম সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ হওয়ার রেকর্ড গড়েছিল। 

ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় টার্কির দাম ৩৩ শতাংশ কমেছে। তবে এই সংখ্যার উৎস স্পষ্ট নয়। তিনি দাবি করেন, দেশের অনেক এলাকায় এখন প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম ২ দশমিক ৫০ ডলার, এমনকি কিছু অঙ্গরাজ্যে তা ১ দশমিক ৯৯ ডলারেও নেমে এসেছে। কিন্তু বুধবার আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) এর জাতীয় গড় হিসাবে পেট্রলের দাম ছিল প্রতি গ্যালন ২ দশমিক ৯০ ডলার। আর নভেম্বর মাসের গড় দাম ছিল ৩ ডলার, যা গত বছরের দামের কাছাকাছি।

আরও পড়ুন

×