গৃহযুদ্ধের মধ্যেই মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু
ছবি: রয়টার্স
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:০৫ | আপডেট: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:২৭
গৃহযুদ্ধ ও সহিংসতার মধ্যেই মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ আজ রোববার শুরু হয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এটিই দেশটিতে প্রথম জাতীয় নির্বাচন। খবর: রয়টার্স।
ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা বলছে, এই নির্বাচন মিয়ানমারকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
তবে জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, বর্তমান বাস্তবতায় এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু কিংবা বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে জান্তা-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ না থাকায় ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মূলত সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলদের দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)।
অন্যদিকে, ২০২০ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয় পাওয়া নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চি এখনও কারাবন্দি। তাঁর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দলকে সামরিক সরকার ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করেছে।
তিন ধাপে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট হচ্ছে আজ। আগামী ১১ জানুয়ারি ও ২৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের ভোট নেওয়ার কথা রয়েছে। মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ২৬৫টিতে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও এসব এলাকার সব জায়গায় জান্তার কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ এখনও জানানো হয়নি।
মিয়ানমার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও থাইল্যান্ডের কাসেতসার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লালিতা হানওয়ং মনে করেন, এই নির্বাচন আসলে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখার একটি কৌশল।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশজুড়ে চলমান সশস্ত্র সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল সরকার গঠন করা জান্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এমনকি বেসামরিক শাসনের আড়াল তৈরি করা গেলেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া কঠিন বলেই মনে করছেন তারা।
- বিষয় :
- মিয়ানমার
- গৃহযুদ্ধ
- ভোটগ্রহণ
- জাতীয় নির্বাচন
