ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কেরালায় বাসে ‘হেনস্তার’ ভিডিও ভাইরাল, অভিযুক্তের আত্মহত্যার পর নারীকে গ্রেপ্তার

কেরালায় বাসে ‘হেনস্তার’ ভিডিও ভাইরাল, অভিযুক্তের আত্মহত্যার পর নারীকে গ্রেপ্তার
×

দীপক ইউ। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

বিবিসি বাংলা

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৯:৫৫ | আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০:০৯

সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওর কারণে ভারতের কেরালায় এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে। যে নারী ওই ভিডিওটি পোস্ট করেছিলেন, তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন তাঁর নাম দীপক ইউ। গ্রেপ্তারকৃত নারীর নাম শিমজিথা মুস্তাফা। ভিডিওটি পোস্ট করে শিমজিথা অভিযোগ করেছিলেন, বাসে করে যাওয়ার পথে তাঁকে দীপক অবাঞ্ছিতভাবে স্পর্শ করেছেন। সেজন্য তিনি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেছিলেন।

শিমজিথা সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট বানান। ঘটনাটি নিয়ে কেরালায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিও ভাইরালের পর আত্মহত্যা
দীপক ইউ গত সপ্তাহে কন্নুড় জেলায় একটি বাসে করে কোঝিকোডে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। ধারণ করা ভিডিওতে দীপককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। বাসটিতে যাত্রীদের ভিড় ছিল। শিমজিথার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বাসেই তাঁকে অবাঞ্ছিতভাবে স্পর্শ করা হয়।

কেরালার ইংরেজি পত্রিকা ‘দ্য উইক’ লিখেছে, ভিডিওটি দেখে মনে হচ্ছে দীপকের কনুই ওই নারীর বুকে লেগেছিল। শিমজিথার অভিযোগ, সেটা হঠাৎ করে ঘটেনি।

ঘটনাটি গত শুক্রবারের। পরের দিন, ১৮ই জানুয়ারি দীপকের ৪২তম জন্মদিন ছিল। তাঁর বন্ধু আসগার আলি বিবিসিকে বলেন, গত শনিবার ভিডিওটি তাঁর নজরে পড়ে। এরপর তিনি সেটি দীপককে পাঠান। সে (দীপক) এতটাই ভদ্র ছিল যে, কোনো নারীকে আঘাতের মতো কাজ করতেই পারে না।

আসগার আলি বলেন, ‘দীপক আমাকে বলেছিল যে বাসে ভীষণ ভিড় ছিল। তাই পেছনে কে দাঁড়িয়ে আছে, সেটা দেখতে পায়নি।’ বার্তা সংস্থা এএনআই দীপকের পরিবারকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, প্রায় ২০ লাখ মানুষ ওই ভিডিওটি দেখেছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে দোষী বানিয়ে যেভাবে ট্রল করা হচ্ছিল, তাতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

শিমজিথার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে গত রোববার দীপকের দুই বন্ধু উকিলের সঙ্গে দেখা করেন। সেদিন সকালেই ঘরে দীপকের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। 

কী বলেছিলেন ওই নারী
দীপক আত্মহত্যা করার পরই নিজের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেন শিমজিথা। পরে অন্য একটি সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করে তিনি জানান, ভিডিওটি পোস্ট করে তিনি ভুল কিছু করেননি। এর পেছনে ‘ভিউ’ বাড়ানোর উদ্দেশ্য ছিল না। একটি গভীর সামাজিক ও মানসিক বিষয় প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন।

শিমজিথা মুস্তাফা লিখেছিলেন, ‘আমি গতকাল বাসযাত্রার সময়ে এক ব্যক্তির ভিডিও পোস্ট করেছিলাম, যিনি ইচ্ছা করে আমার শরীর স্পর্শ করছিলেন। এটা হঠাৎ করে হওয়া কোনো ঘটনা যেমন ছিল না তেমনই কোনো ভুল বোঝাবুঝিও ছিল না। এটা গুরুতর মনোবৈজ্ঞানিক এবং শ্লীলতার গণ্ডি ছাড়ানোর বিষয়। বিনা অনুমতিতে কারো শরীর স্পর্শ করার অধিকার কি কারও আছে?’

শিমজিথা আরও লিখেন, ‘ওই ব্যক্তির হাবভাব এমন ছিল যেন কেউ আমার কিচ্ছু করতে পারবে না। আমি একথা এজন্য লিখছি যে আমার সামনে দাঁড়ানো আরেক নারীকেও উত্ত্যক্ত করছিল ওই ব্যক্তি। তখনই আমি ক্যামেরা অন করে তার গতিবিধি রেকর্ড করতে শুরু করি। সে দেখেছিল যে আমি ভিডিও বানাচ্ছি, কিছুক্ষণের জন্য থেমেছিল। কিন্তু আমি তাকে আবারও একই কাজ করতে দেখি।’

আরও পড়ুন

×